ঐক্য নষ্টের জন্য সরকারকে দুষছে বিএনপি ও বামদলগুলো

যেসব সংস্কারে সব দলের মত ছিল, সেগুলোই আপাতত জুলাই সনদের ভিত্তি হলে রাজনৈতিক ঐক্য নষ্ট হতো না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ঐক্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের আরও বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে বাম দলগুলো।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফুঁসে ওঠে রাজধানীসহ সারা দেশ। সুশাসনের অভাব, গণতন্ত্র ধ্বংস, গুম-খুন এবং সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ‘আওয়ামী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের’।

এরপর রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন, বিচারিক সংস্কার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে এক বছর না যেতেই অনিশ্চয়তা ভর করেছে। একদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থানের ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রশাসনিক দ্বিধা—জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার পরিবর্তে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “যেখানে একমত সবাই, সেগুলোই জুলাই সনদে যুক্ত করা উচিত ছিল। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হয়ে নিজেদের মতো করে অনেক কিছু যুক্ত করেছে, যেগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষ পরিচিত নয়।”

রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক ঐক্যের বিষয়ে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাম দলগুলো।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “যে বিষয়গুলোয় সবাই একমত, সেগুলোই হবে সমঝোতার ভিত্তি। নতুন করে কোনো এজেন্ডা উত্থাপনের সময় এখন নয়। সরকার যদি এই পথে এগোয়, তাহলে কিছু ছোটখাটো আপত্তি বা সমালোচনা থাকলেও সবাই বিষয়টি মেনে নেবে বলে আমার ধারণা।”

জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও তাগিদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।