এবারের নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার হিসাব–নিকাশ পাল্টে দিতে পারেন তরুণ ভোটাররা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর তরুণরা আবারও ভোট দিতে আগ্রহী হয়েছেন এবং তাদের ভোটেই বদলে যেতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ। তরুণরা বলছেন, এবারের নির্বাচন তাদের কাছে বেশ কাঙ্ক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩ ধাপে ভোটার তালিকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সবশেষ তালিকায় মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের সংখ্যা আড়াই কোটির মতো।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর নতুন প্রেক্ষাপটে ভোট দিতে অনেক আগ্রহী নতুন ও তরুণ ভোটাররা।
তরুণ ভোটারদের জোয়ার যেদিকে যাবে, সেদিকেই জয় গড়াবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে তরুণরা অবশ্যই বিবেচনায় নেবেন কারা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবেন—এবং সেটি প্রতিফলিত হবে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ওয়াদা—কে কথা দেবে আর কে কথা দিয়ে রাখবে, এই বিষয়গুলো। এবং কারা তরুণদের স্বার্থ–বান্ধব। তরুণরা যদি কোনো দিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে যায়, তাহলে এই ভোট যে দিকে যাবে তারাই আমার মনে হয় ব্যবধান তৈরি করতে পারবে।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যেকোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার চাবি এখন তরুণ ভোটারদের হাতে। রাজনীতি ও দেশ গঠনের পরিকল্পনা কোন দল কতটা তুলে ধরে তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারবে তার ওপর নির্ভর করবে ভোটের হিসাব। নতুন ও তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ যদি একই ধারায় চিন্তা করেন, তাহলে বদলে যেতে পারে ভোটের ফলাফল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘ওই দলটা সবচেয়ে বড় দল—সুতরাং সেদিকেই তাদের সমর্থন যাবে, এবার ঠিক সে রকম নাও হতে পারে। এরা যদি মোটামুটি একরকম বা কাছাকাছি চিন্তা করে, তাহলে অবশ্যই ভোটের ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—কারণ এখানেই তরুণদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।