জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং আরেক অংশের নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে ১৮ দলীয় নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা এনডিএফ। সোমবার রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন নতুন এই জোটের নেতারা। একই সঙ্গে, তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচনকালীন সরকারে পরিণত হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে চলছে নানা হিসাবনিকাশ, আত্মপ্রকাশ ঘটছে নতুন নতুন জোটের। এরমধ্যেই এই নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটল। এতে জাতীয় পার্টির একাংশ এবং জেপিসহ মোট ১৮টি দল রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত এবং ১২টি নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষমাণ।
অনুষ্ঠানে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, অতীতে এরকম নানা উদ্যোগ সফল হয়নি। তবে, তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সফল হবে। সরকার মন খুলে কথা বলতে বললেও কথা বলার কারণে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মঞ্জু তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘সংবাদপত্রের কোনো স্বাধীনতা নাই এ কথা আমি বলব না। আমাদের বাক স্বাধীনতা নাই, এটা আমি বলব না। কিন্তু একটু বেকায়দা হলে পরেই, দেশ ছাড়া করবে, মাথা ভেঙে ফেলবে, ঠ্যাং ভেঙে দেবে, এগুলো কি ভাষা!’
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়। পরে দলটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটে যোগ দেয়। সে সময় আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় থাকা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে নতুন দল গঠন করেন। জাতীয় পার্টির এই অংশটি জেপি নামে পরিচিত।
জেপি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোটের অংশ ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৪ দলীয় জোট নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্ত হন।
এনডিএফ জোটের প্রধান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য ভোটের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘জোটের নাম হবে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, এনডিএফ। আমাদের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে অবশ্যই বৈষম্যহীন, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। সরকারকে আগামী দুই মাসের মধ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারে পরিণত হতে হবে।’
জোটের সমন্বয়ক এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, কোনো দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা টেকসই হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘অতীতের সব ভুল ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে একটি সুস্ঠু, সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হতে হবে।’
জোট নেতারা আরো অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) মুখে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বললেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।