বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। জনগণ রায়ের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে অতিতের পচা রাজনীতি ও শাষন ব্যবস্থা আমরা আর চাই না। আমরা পরিবর্তন চাই, নতুন শাসনব্যবস্থা এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শনিবার দুপুরে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য বরিশাল বিভাগের আয়োজনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে আয়োজিত বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে ২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৯টি বছর মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। কিন্তু মানুষ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি। আসল ফ্যাসিবাদকে জনগণ পাত্তা দেয় নাই, ডামি ফ্যাসিবাদ আবার কিসের? ফ্যাসিবাদ যে পথে হেঁটেছে, আপনারা সেই পথে হাঁটছেন।
বিরোধী দরীয় নেতা আরও বলেন, যে গণভোটে জনগণ ৭০ ভাগ রায় দিয়েছে, ওই গণভোট না থাকলে এই সরকারও মানা হবে না। গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। গণভোট মানতে জনগণ আপনাদের বাধ্য করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪ আমরা হারিয়ে যেতে দেব না। ২৪ এর বীরদেরকে রাষ্ট্রিয় সন্মানে সন্মানিত করতে হবে। ২৪ এর অবহেলা জাতি মেনে নেবে না। আমাদের সাফ কথা, গণভোটের গণরায় মানতেই হবে। যারা জনগণের ভোট মানে না, গণতন্ত্র মানে না এরা গণতন্ত্রের শত্রু। আমরা চাই না এই সরকারকে গণতন্ত্রের শত্রু বলি।
জামায়াত আমির বলেন, বিরোধীদলের আসনগুলোতে বৈষম্য করা হচ্ছে। বৈষম্যের জন্য জুলাই হয়নি । বৈষম্যের কবর রচনা করার জন্য জুলাই হয়েছিল। সংসদে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা বৈষম্য মেনে নেব না। আমরা জ্বলে উঠব।
সকলকে চিড়া–মুড়ি নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট মেনে নেওয়ার ঘোষণা না দিল ঢাকার মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন। হাতে চিড়া–মুড়ি নিয়ে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিন। কিছু না থাকলে রোজা থাকব। আর চিড়া, গুড়ের শক্তি এটম বোমার চেয়েও শক্তিশালী।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, যে জুলাই সনদের পক্ষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হ্যাঁ প্রচারণা করলেন নির্বাচনের ফলাফলের পর ৭০ ভাগ জনগণ হ্যাঁ–এর পক্ষে রায় দেওয়া সত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। কিন্তু মুখে বলছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতা দিয়েছে তার মানে এই নয় তিনি যা খুশি করবেন। বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে।
সরকারের প্রতি অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার কথা বলেছিল। কিন্তু ৫ মাস হলেও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ ঘটেছে। আওয়ামী লীগ আর কখনো বাংলাদেশে আসবে না।
তিনি বলেন, একটা লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে ১১ দল একত্রিত হয়েছে। একত্রিত হওয়ার কারণ হচ্ছে দেশ থেকে দুর্নীতির দূর হোক, চাঁদাবাজি-মাস্তানি বন্ধ হোক এবং মানুষ ন্যায় বিচার পাক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রীক পার্টির মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়র রাসেদ প্রধান বলেন, বর্তমান সরকার জনগনের দেওয়া জুলাই সনদ ভুলে গেছেন। যারা কথায় কথায় মিথ্যা বলে, জাতির সাথে মোনাফিকি করে, জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে তাদের সাথে কোনো আপস হবে না। তারেক রহমান ও তার মন্ত্রীরা কথার বরখেলাপ করেছে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব ব্যরিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, হাসিনার জন্য বাংলাদেশের সকল সীমান্তে লাল গালিচা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। সুবেন্দ অধিকারী আর দীলিপ ঘোষের নেতৃত্বে কোন সীমান্ত দিয়ে ঢুকবেন আমরা কোটি জনতা আপনাকে বরণ করার জন্য উপস্থিত থাকব। সীমান্ত থেকে সরাসরি কারাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের ইতিহাসে গণমাধ্যম বিরোধী দলের বক্তব্য প্রকাশ করেনি। টকশোতে বিএনপি জামাতের বক্তব্য ছিল না। কোনো গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রকাশ করায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আরও বলেন, গত ৫ মাসে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপির ৩১ দফা ইতইমধ্যে ৬/৭ টি দফা তারা নিজেরাই ভঙ্গ করেছে। জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোটের গণরায়, বিচার প্রক্রিয়াকে তালবাহানার মধ্য দিয়ে অকেজো করে দেওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।



