আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভিতে) ভোটারদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি'র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
বিটিভি থেকে প্রচারিত এই নির্বাচনী বক্তব্যে তিনি একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও দখলমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ১৮ দফা মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, 'গত ৫৫ বছরের বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা।' তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এনসিপি ক্ষমতায় গেলে বিগত ১৫ বছরের গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে গঠন করা হবে বিশেষ 'পাবলিক ট্রাস্ট'।
প্রতিরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সংস্কার
প্রতিরক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ১৮ ঊর্ধ্ব সকল সক্ষম তরুণ-তরুণীর জন্য বাধ্যতামূলক মিলিটারি ট্রেনিং চালু করা হবে। পুলিশ বাহিনীকে 'দলীয় বাহিনী'র তকমা থেকে মুক্ত করতে এর নাম পরিবর্তন করে 'জনসেবক বাহিনী' রাখার প্রস্তাব করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশের বিদ্যমান কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন নাহিদ।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা
স্বাস্থ্য খাতের 'টেস্ট বাণিজ্য' ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করা হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হাসপাতালেই নির্দিষ্ট ফি-তে রোগী দেখবেন।' শিক্ষা খাতে জিডিপি'র ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের উচ্চ বেতন নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।
কৃষি, বিদ্যুৎ ও অর্থনীতি
কৃষকদের জন্য সরাসরি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা এবং সহজ কৃষি ঋণের নিশ্চয়তা দেন তিনি। বিদ্যুৎ খাতের 'ক্যাপাসিটি চার্জ' নামক লুণ্ঠন বন্ধ এবং বিতর্কিত চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের কঠোর বার্তা দেন এনসিপি'র এই তরুণ নেতা। তিনি বলেন, 'বিদেশগামী কর্মীদের জন্য মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে অভিবাসন ব্যয় কমানো হবে এবং এনজিওর মাধ্যমে সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।'
ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, 'এনসিপি সরকার গঠন করলে মন্ত্রী-সচিবদের জন্য রাস্তা বন্ধ করা হবে না। জনভোগান্তি কমাতে মন্ত্রীদের সপ্তাহে অন্তত একদিন এবং সচিবদের দুই দিন গণপরিবহনে চলাচল বাধ্যতামূলক করা হবে।'
দখলমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ডাক
বক্তব্যের শেষে নাহিদ ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'ইন্ডিয়ার আধিপত্য, ফ্যাসিবাদী শক্তি, চাঁদাবাজি এবং অযোগ্য আমলাদের প্রভাব থেকে দেশকে দখলমুক্ত করতে হবে। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।'
ঢাকা-১১ আসনের জামায়াত সমর্থিত এই এনসিপি প্রার্থী ভোটারদেরকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তার ভাষণ শেষ করেন।