সরকারের অব্যাহত জ্বালানি সংকটসহ নানা সংকটের ব্যর্থতা আড়াল করতেই ছাত্রদলের হাতে রামদা, চাপাতি তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সাদিক কায়েম লিখেছেন, অব্যাহত জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি, তীব্র লোডশেডিংসহ সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও কূটনৈতিক দুর্বলতায় জনজীবন যখন চরম বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই ছাত্রদলের লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে রামদা, চাপাতি তুলে দিয়ে তাদেরকে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, এই বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা কখনো কুপিয়ে গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে, কখনো শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে পেটাচ্ছে, কখনো ভুয়া স্ক্রিনশট বানিয়ে হত্যাচেষ্টা করছে। এমনকি সাংবাদিকরাও এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আমরা মনে করি, এই সকল ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
সাদিক কায়েম লিখেছেন, একদিকে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, চাপাতি, রামদা ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি ফিরিয়ে এনে গেস্টরুম, গণরুম কায়েম করে শিক্ষার্থীদের দলদাস বানানোর তীব্র মনোবাসনা, অন্যদিকে সরকারের অব্যাহত ব্যর্থতা আড়াল করার লক্ষ্যেই এসকল ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
তিনি লিখেছেন, বিগত কয়েকদিন যাবত চট্টগ্রাম সহ দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা তৈরি ও অস্ত্রের মহড়া আমরা দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বিগত কয়েকদিন যাবত নানা অপতৎপরতায় ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ভুয়া স্ক্রিনশটের আশ্রয় নিয়েছে ছাত্রদল।
সাদিক কায়েম লিখেছেন, যেকোনো মূল্যে সংঘাত বাঁধিয়ে শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করে কারা ফায়দা নিতে চায় তা দেশের আপামর ছাত্রসমাজের কাছে আবারও স্পষ্ট হলো। প্রথমে একটি ভুয়া স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু হয়। বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকিং প্লাটফর্ম দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নিশ্চিত করে স্ক্রিনশটটি ভুয়া এবং বানানো।
তিনি লিখেছেন, জীবনের নিরাপত্তা চাইতে থানায় গেলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের জনশক্তি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উবায়দুর রহমান হাসিবসহ ডাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন প্রতিনিধিকে শাহবাগ থানায় অবরুদ্ধ করে হামলা চালানো হয়। মুসাদ্দিক, জুবায়ের, আলভি, সাদিক, জুমা, সালমাদের হেনস্তা ও বেধড়ক মারধর করা হয়।
সাদিক কায়েম লিখেছেন, কেবল তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের উপরও চড়াও হয় ছাত্রদল। এ নিয়ে দুইদিনে অন্তত ১৬ সাংবাদিককে হেনস্তা করেছে তারা। আমরা পুলিশ প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা কেউই কোনো রেসপন্স করেন নাই।
তিনি লিখেছেন, গুজব ছড়িয়ে এধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টির পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধরেছি। ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আমরা সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছি।
সাদিক কায়েম আরও লিখেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সহ বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান, দেশে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্যোগী হোন। অন্যথায় ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডই নিকট ভবিষ্যতে আপনাদের দিকে ব্যাকফায়ার করবে।