দেশের আইনজীবীদের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন সুপ্রিমকোর্ট বারের দুই দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে বুধবার। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিপন্থী আইনজীবীরা আলাদা আলাদা প্যানেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করচেন। আইনজীবীদের একাংশ ভোট বর্জনের ডাক দিলেও অন্যরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতোই ভোট হবে উৎসবমুখর ও প্রতিন্দ্বিতাপূর্ণ।
গত সপ্তাহ দেড়েক ধরে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন ও আদালত এলাকায় মিছিল আর গনসংযোগে সবচেয়ে বেশি সরব নীল প্যানেলের বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। জামায়াতপন্থীদের সবুজ ও এনসিপির লাল-সবুজ প্যানেলের কার্যক্রম অতটা ঢাক ঢোল পিটিয়ে না হলেও ভোট চাওয়ায় ব্যস্ত ছিল তারাও।
২০২৬-২৭ সেশনে ১৪টি পদের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতপন্থীরা প্রত্যেক পদে প্রার্থী দিলেও এনসিপি সম্পাদকসহ আংশিক প্যানেল দিয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে বিএনপির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও জামায়াতের আব্দুল বাতেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে সম্পাদক পদে দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বহুমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের ৪১ জনের মনোনয়ন বাতিল করে ভোটে অংশ নিতে না দেওয়ায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সাধারণ আইনজীবীদের ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছেন তারা।
প্রার্থীতা বাতিল হওয়া আইনজীবী মোকছাদুল ইসলাম বলেন, 'সাধারণ ভোটার বা মেম্বাররা আমাদের সাথে একাত্মতা করে শুধু শান্তিপূর্ণভাবে এই ইলেকশন বর্জন করবে। এই হচ্ছে আমাদের আহ্বান। এদের অনেকেই যারা আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তখন কিন্তু আওয়ামী লীগ ব্যানড ছিল না।'
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা বলছেন, দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তাদের সহযোগী আইনজীবীদেরও প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে তাদের এই বর্জনের কোন প্রভাব পড়বে না বলেও জানান তারা।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজল বলেন, 'এই ৪১ জনের সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দোসর তারা এবং আইনে যেহেতু আওয়ামী লীগ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেই আইনেই এটা বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম বা অনৈতিক কিছু করা হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোট হবে, সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা হবে, সুষ্ঠুভাবে ফলাফল ঘোষণা হবে।'
বিগত দিনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এই ভোটে মারামারি, ফল জালিয়াতিসহ তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেকের। তবে ১৩ ও ১৪ মে ভোটগ্রহণ শেষে এবার সুষ্ঠু ফল প্রকাশের প্রত্যাশা ভোটারদের।