সম্প্রতি ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতার নিখোঁজ ও আত্মগোপনের অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে পুলিশের উদ্ধার এবং সবশেষে ওই নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় সংসদে রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কুমিল্লায় ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা মো. জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ এবং ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলার বিষয়টি অবহিত করেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতায় সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
দুপুরে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর জানান। ওই বক্তব্যের পর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়টি সংসদে জানানোর অনুমতি চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে অনুমতি দেন।
শিবির নেতা জিসান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একজন নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করলে তিনি অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েন বলে কুমিল্লার পুলিশের বরাত দিয়ে সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর জিসান জোরপূর্বক ভ্রুণ নষ্ট করার চাপ প্রয়োগ করে এবং নষ্ট না করলে ওই নারীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ১১ জুন জিসান আত্মগোপন করে চাচাতো ভাইকে দিয়ে থানায় নিখোঁজ জিডি করান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এ ঘটনায় ওই নারীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত সজীব হাসান ও সেকান্দার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে।
পুরো ঘটনাটির বর্ণনা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টের কথা উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তার নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পরে সেটা আমরা মনে করলাম এই ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার।’
স্বরাষ্টমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি সংসদে বলেন, ‘ভেরি আনফরচুনেট থিং হচ্ছে, এটা আমার জানা নাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী পর্যায়ে একটি আনডিসাইডেড ম্যাটারকে বিতর্কিত বিষয়কে পার্লামেন্টে এরকম বক্তব্য রাখা– কোনো একটি দলকে উদ্দেশ্য করে, এইটা বোধ হয় পার্লামেন্টের ইতিহাসে এই প্রথম বলেই আমি মনে করি।’
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘সংসদের বিধান অনুযায়ী ৩০০ বিধিতে কথা বললে সে নিয়ে প্রশ্ন করা যায় না।’
জামায়াতের নায়েবে আমির এ সময় শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বর্তমান অবস্থান জানতে চান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কুমিল্লার পুলিশ জিসানের সাথে, ওই মেয়েটার সাথে– কারো সাথেই কথা বলতে দিচ্ছে না। কিন্তু এটা কেন? এখানে কি কোনো প্লট তৈরি হচ্ছে? আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা মনে হচ্ছে, ওনারা একটা প্লট তৈরি করার জন্যই পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই লাইনে আলোচনা করে এই কাজটি করেছেন।’