বিএনপি সরকার সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে না পারলে দেশ ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে থেকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী। এ ইস্যুতে বিএনপি সরকারের পতন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
শুক্রবার দুপুরে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী এসব মন্তব্য করেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার এদিকে না হেঁটে সংশোধন প্রক্রিয়ার দিকে হেঁটেছে। আমরা ১১ দলীয় জোট পুরো বাংলাদেশে ১০টি জায়গায় বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। প্রত্যেকটা বিভাগীয় কর্মসূচিতে কর্মসূচিতে লাখের অধিক মানুষ উপস্থিত হচ্ছে।’
নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘গত সংসদ নির্বাচনে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। বিএনপি সরকার যদি এই সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে না পারে তাহলে এই দেশটা আরেকটা ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে থেকে যাবে। এই সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি সরকারের পতনটা হবে বাংলাদেশে।’
নাসিরউদ্দীন আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপির ছত্রছায়ায় বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা গুন্ডা–সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে না। তাই এই সরকার ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানাব আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় নয়। যারা আমাদের ভাইদের খুন করেছে তাদের অবশ্যই বিচার কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। জুলাই অভ্যূত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা– নতুন একটি বাংলাদেশ গঠন করব। সেই আকাঙক্ষা কিন্তু আমরা পূরণ করতে পারিনি।’
এ সময় এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আপনারা দেখেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ‘লাগারে লাগা, ধান লাগা’, যারা এই ধরনের স্লোগান দেয় তাদের নিয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জ্বি হুজুর, জ্বি হুজুর ধরনের লোক প্রশাসনে দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যাংকিং সেক্টরে অদক্ষ লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জের উন্নয়নের সেইম মডেল এখন বগুড়ার শিবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গোপালগঞ্জ এবং বগুড়ার এই মডেল যদি বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হয় তাহলে যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতা মাঠে নেমে এসেছিল সেই যে আকাঙ্খা কিন্তু অধরাই থেকে যাবে। তাই এনসিপি মনে করে বাংলাদেশের যে জায়গায় উন্নয়নটা প্রয়োজন সেখানেই দিতে হবে।’
নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিজেদের আত্মীয়–স্বজনের নামে ইউনিয়নের নামকরণ হীনজাতের পরিচয়। যাদের মন–মানসিকতা খুবই সংকীর্ণ তারা এই ধরনের কাজ করতে করে থাকে। যদি নাম পরিবর্তন করতে হয় অথবা নতুন নামকরণ করতে হয় তাহলে বলব শহীদ আবু সাঈদ আছে, শহীদ মুগ্ধ আছে আমাদের ১৪০০ শহীদ আছে তাদের নামে নামকরণ করেন।’
নাসিরুদ্দিন অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আপনার ছেলেকে গণঅভ্যুত্থানে দেখা যায়নি। আপনারা আরাম আয়েশে ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করেছিলেন। আপনাদের ছেলেকে ঠিকাদারি কাজ দিয়েছেন। এ ধরনের যে নোংরা রাজনীতি আপনারা আবার জন্ম দিচ্ছেন– তা বাংলাদেশের জনগণ পছন্দ করবে না।’
এসময় এনসিপির বাগেরহাট জেলা কমিটির সমন্বয়ক সৈয়দ আনোয়ার মোর্শেদ, সদস্য আল আমিন খান সুমনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বাগেরহাটে পৌঁছে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। এছাড়াও তিনি বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদের ঘোড়া দীঘির পাড়ে বৃক্ষরোপণ ও জুম্মার নামাজ আদায় করেন।