এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

আকস্মিক বন্যা ও দেশজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাসহ সব বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ সোমবার ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনা কামনা করা হয়।

এতে বলা হয়, সারা দেশে চলমান অতিবর্ষণ, ৭ জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতির ঘাটতি, সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক ও মানবিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত প্রতিকূলতার কথা বিবেচনা করে চলমান উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছে ছাত্রদল। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলায় বন্যায় ইতিমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধ হলো, বন্যাকবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া যে দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত, সেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে বন্যা উপদ্রুত এলাকার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সাথে দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো পরীক্ষার উপযোগী হওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাই হবে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত।’