বাংলাদেশের রাজনীতিতে গন্ডগোল পাকানো এবং ক্ষমতার পালাবদলসহ অর্থনীতি–সংস্কৃতি সবকিছুর রিমোট কন্ট্রোল দিল্লির হাতে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দলের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই দেশের রাজনীতির যত গন্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো, কে ক্ষমতায় যাবে আর যাবে না, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি—সবকিছুর রিমোট কন্ট্রোল তো উনারা (দিল্লি) করছেন। তারা সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, বন্দি বিনিময় আইন, জেনেভা কনভেনশন—সমস্ত কিছুকে লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করার জন্য আরাম-আয়েশে দিল্লিতে থাকার সুযোগ দিচ্ছে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আমি মনে করি, আমরা সব প্রতিবেশীর সাথে যেমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, দেশের স্বার্থে, ন্যায্য সম্পর্ক চাই। কিন্তু একের পর এক একটা দেশের রাজনীতি, সরকার এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী একের পর এক পদক্ষেপ নিলে দেশের জনগণ তো সেটা পছন্দ করে না।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, আন্তর্জাতিব অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে, আইন আছে, সরকার আছে—তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের কাছে চাওয়া অনুযায়ী আমরা এই সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিছি। তবে যতটা হুমকি-ধামকি তারা দিচ্ছেন, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয়বার্ষিকী আমরা এখন আবার পালন করছি। আমরা টের পাচ্ছি এখনও জনগণ কিন্তু সেই প্রাণবন্ত, সেই লাল জুলাইয়ের চেতনা এখনও ধারণ করে।
এ বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, এই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এই দেশের জনগণ কখনো বরদাস্ত করবে না। আর যদি এরপরে আবার কোনো জুলুম চালাইতে হয়, তো র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, আধিপত্যবাদী শক্তির সমস্ত রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই জনগণই কিন্তু ফ্যাসিবাদের এই রানীকে কিন্তু দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। তারা এ দেশে কিন্তু এখনও আছে।
সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা চায় সংশোধন। অথচ বিএনপি যে ৩১ দফার কথা বারবার বলে রাষ্ট্র সংস্কারে—৩১ দফার এক নম্বর পড়ে দেখবেন। আপনি গুগলে সার্চ দেন, পাবেন। ৩১ দফার এক নম্বরে বিএনপি স্বীকার করেছিল যে, ‘আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন্য একটা কমিশন গঠন করব।’ কই? এখন তারা সংস্কার কয় না, এখন তো সংশোধন কয়। তাহলে জাতির কাছে দেওয়া কথা তারা রক্ষা করলো না, অঙ্গীকার ভঙ্গ করল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপির উচিত দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, শপথ গ্রহণ করা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় মেনে নিয়ে এটা কার্যকর করে সংবিধানের সেই সংস্কারটা করা। তাহলেই সংকটটা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আর তা যদি না করেন তাহলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নতুন গঠিত সরকার এবং সংসদের পর এই কয়েক মাসে দেশে অসংখ্য জনদুর্ভোগ চলছে। অসহনীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি; হত্যা, নির্যাতন, শিশু ধর্ষনসহ বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগ, তাদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না; তাদের উদ্ধার, পুনর্বাসনের তেমন কোনো সরকারি পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলেও সমালোচনা করেন তিনি।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো. ইব্রাহিম ভুইয়ার সভাপতিত্বে সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, কর্মপরিষদ সদস্য মশিউল আলমসহ অন্যান্যরা। এর আগে নরসিংদী জেলার রুকনদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।