ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান

এই দিনে বিএনপির ঘোষণার পর রাজপথে সক্রিয় হয়েছিল ছাত্রদল

২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের ২৬ জুলাই, স্বৈরাচারী সরকার পতনে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় বিএনপি। সাথে সাথে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে রাজপথে কর্মসূচি দেয় ছাত্রদল। সংগঠনের নেতারা জানান, আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন ছাত্রদলের ১৪২ নেতা-কর্মী আর আহত হয়েছেন অন্তত ৪ হাজার। গুম আর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন শতাধিক নেতা-কর্মী। 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর একদিকে গুলি চালায় স্বৈরাচারী শাসকের অনুগত আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীরা। অন্যদিকে চলে গণহারে গুম ও গ্রেপ্তার। 

জুলাইয়ে রাজপথে ছিলেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু জাফর। পুলিশের হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ২৪ জুলাই তাঁকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। দুই দিন নির্যাতনের পর ২৬ জুলাই পাঠানো হয় আদালতে। 

ছাত্রদলের সহসভাপতি আবু জাফর বলেন, ‘আমাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এরপর আমি মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম, ওই সময়ে যদি আমি উঠতে না পারতাম, তাহলে হয়তো আর বাঁচতে পারতাম না, আবু সাঈদ কিংবা ওয়াশিমের মতো আমার নামও শহীদের খাতায় চলে যেত।’

গণ-অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই সারা দেশে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করতেন পকেট রাউটার। আহতদের হাসপাতালে নিতে আগে থেকেই ভাড়া করে রেখেছিলেন অ্যাম্বুলেন্স ও ভ্যান। 

ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণে বুলেট দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনোভাবে ম্যাচাকার করে ম্যাস মোবিলাইজেশনটাকে কন্ট্রোল করা যায়। ওই সময়ে দেখেছি আমার সামনে একেকটা ভ্যান গুলিবিদ্ধদের নিতে ৮ থেকে ১০ ট্রিপ দিতে।’ 

সে-সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে নির্দেশনা পেতেন নেতা-কর্মীরা। 

আবু জাফর বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার কারার পর প্রথম প্রশ্ন করেছে–তারেক রহমানের সাথে তোর কী কথা হয়েছে, বল! তারমানে তারা জানতো তারেক রহমানের সাথে আমার আন্দোলনের বিষয়ে কথা হয়েছিল।’

ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, তারেক রহমান আমাকে বলেছিলেন অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নাও কিন্ত রাজপথ ছাড়া যাবে না, নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাজপথে থাকতে হবে।’

শ্যামল মালুম বলেন, ‘প্রত্যেকটি বিষয় আমরা কিন্তু ওই সময়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে আমাদের প্রতিনিদ কথা হয়েছে। প্রতিদিন আমাদের ৮ থেকে ১০ বার চ্যাটিং বা টেক্সটে কথা হয়েছে। ওই সময়ে আমাদের প্রত্যেকটি বিষয়ে উনি কানেকটেড থাকতেন এবং আমরাও উনাকে সবকিছু আপডেট দিতাম।’

নির্যাতনের দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করছে তাদের। এখন দাবি, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি।