ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান 

এই দিনে ৬ সমন্বয়ককে দিয়ে দেওয়া হয় আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা, উত্তাল হয় দেশ

২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে যখন সারা দেশ উত্তপ্ত, তখন ২৮ জুলাই আন্দোলনের সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ডিবি হেফাজতে থাকা প্রধান ছয় সমন্বয়ক। নির্যাতনের মুখে জোরপূর্বক এমন ঘোষণার পরপরই সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দেয় আত্মগোপনে থাকা অন্যান্য সমন্বয়কেরা। সে বার্তায় ভিন্ন গতি পায় আন্দোলন।

চব্বিশের ২৮ জুলাই তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদের সাথে জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন জাগে জনমনে।

একের পর এক আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ২৮ জুলাই আরেক জুলাই যোদ্ধা নুসরাত তাবাসসুমকেও ওইদিন তুলে নেওয়া হয় ডিবি হেফাজতে।

প্রশ্নের উত্তর মিলে আরেক ভিডিও বার্তায়। যেকোনো উপায়ে আন্দোলন থামাতে নির্যাতনের মুখে সমন্বয়কদের দিয়ে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সরকার। আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ডিবি হেফাজতে থাকা জুলাই যোদ্ধারা।

তবে, নির্যাতনের মুখে জোরপূর্বক এমন ভিডিও বার্তার প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেন আত্মগোপনে থাকা অন্য সমন্বয়কেরা। বিক্ষোভ রূপ নেয় তীব্র আন্দোলনে। ১০ দিন ধরে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করতে বাধ্য হয় সরকার।

সমন্বয়কদের আটক ইস্যুতে যখন ক্ষোভে ফুঁসছিল বাংলাদেশ, তখন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে ২৮ জুলাই অব্দি ১৪৭ জন নিহতের কথাও জানান তিনি। যদিও এর প্রকৃত সংখ্যা ছিলো আরো বেশি। 

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলনকে সরকারের এমন কর্মকাণ্ডে আরও গতিবান করে।