সরকার ভারত সফরের বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ব্রিফিং নিয়ে ভারতকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারেনি সরকার।
হাসিনার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারের ভারত সফর করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজ রোববার ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে লং মার্চ কর্মসূচি সফল করতে রোববার রাতে বিরোধী দলীয় নেতার বাসভবনে বৈঠকে বসেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। পরে বৈঠকের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান জোট নেতারা।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধন করে তবে এর পরিণতি ভালো হবে না। অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানান, সরকার যদি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তাহলে রাজপথে থেকেই দাবি আদায় করবে ১১ দল।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, 'সরকার নজিরবিহীনভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে দলীয়করণ করেছে। তারা তাদের ৩১ দফাও পালন করছে না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও সরকার রক্ষা করছে না। সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলে জনগণ রাজপথে তা মোকাবেলা করবে।'
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধীরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ভঙ্গ করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন অভিযোগ সত্য নয় বরং তিনি এর মাধ্যমে গণভোটের আদেশের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম। একইসাথে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপ্লব-পরবর্তী অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ বলে মত তার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সরকার ছয়মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একেবারেই ব্যর্থ। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সরকার এসব ব্যর্থতা স্বীকার না করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। ছয়মাসে মন্ত্রী পরিষদ পুনর্গঠন করতে হয়েছে, এতেই বোঝা যায় সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।'
এসময় গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করা সরকারের সবচেয়ে বড় প্রতারণা উল্লেখ করে দ্রুত গণভোটের রায় মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। এছাড়া সরকারের প্রতি জনগনের আস্থা তলানীতে পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
লংমার্চ প্রসঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে লংমার্চ হবে এবং পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে সব বিভাগে লংমার্চ হবে। প্রতিটি লংমার্চে জুলাই আন্দোলনের মতো জনগণ অংশগ্রহণ করবে।