আদর্শ বিরোধী দল হতে চায় ১১ দলীয় ঐক্য, সরকারকে চাপে রাখার লক্ষ্য

নৈরাজ্য ও সংঘাতের রাজনীতি নয়, বরং আদর্শ বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসনসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতে চান তারা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালনের কথা জানিয়েছেন বিরোধীজোটের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার অতীত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে রাজপথ ও সংসদে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক রাজনীতিতে আগ্রহী বিরোধীজোট। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, জনস্বার্থে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সহযোগিতার কথাও বলছেন তারা। 

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে ফেনী ও মীরসরাই হয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা ও ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে আরও তিনটি লংমার্চের কর্মসূচি রয়েছে। নেতারা বলছেন, এসব কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছি। এখনও জ্বালাও–পোড়াও, ভাঙচুর, হরতাল আগের রাজনীতির মতো খারাপ সংস্কৃতিতে যাইনি। জুলাই সনদ, গণভোট বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত কর্মসূচি দিচ্ছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আমরা থাকব। রাজনীতির বিতর্ক পার্লামেন্টেই থাকবে। 

সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং ভুল বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের সমালোচনা, এই নীতিতেই এগোতে চায় বিরোধীজোট। তাদের মতে, গঠনমূলক বিরোধিতার মধ্য দিয়েই সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার ভুল করছে, সেটা থেকে সঠিক পথে আসুক– এটা আনা বিরোধী দলের কাজ; দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য পরামর্শ দেওয়াও। সরকারকে পথ দেখানো; এগুলো আমরা করে যাচ্ছি। 

বিরোধী দলের জন্য একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা চান জোটের নেতারা। 

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলে সংসদে বা সংসদের বাইরে সবাই শ্রদ্ধাশীল ও সম্মানের একটা জায়গা আছে এখনও। আমরা আশা করছি এটা অব্যাহত থাকবে। 

দেশের যেকোনো সংকটে সরকার চাইলে বিরোধী দল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন বিরোধী জোটের নেতারা।