আমরা ভোট ডাকাতি করব না, কাউকে করতেও দেবো না: গোলাম পরওয়ার

নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আয়োজনে জেলা স্কুল বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় জামায়াতের এই নেতা বলেন, নির্বাচনে তালবাহানা করা হলে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করা হবে। ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কারচুপিতে সহযোগিতা করলে এবং ভোট গণনার সময় অনিয়ম হলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার–ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আমরা ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেবো না।’

জনসভায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা কৃষকদের সারসংকট, বিদ্যুৎ সমস্যা ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, সার ডিলার নিয়োগে দলীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং একেকটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আট মাসেই বিএনপি সরকারের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, সারা দেশে লুটপাট চলছে এবং কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে না।

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের মতো একটি আসন নিতে গিয়ে যেন সরকার বেকায়দায় না পড়ে।

জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বিরোধী দলে থেকেও উন্নয়ন করা সম্ভব, তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১০৫ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, তার চেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিগবাতুল্লাহ সিগবা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হালিম উদ্দীন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।