সুব্রত কুমার দাসের সাক্ষাৎকার

কানাডার বাঙালি সমাজ সম্পর্কে ভাবনা 

লেখক, গবেষক, সমালোচক, উপস্থাপক এবং সংগঠক সুব্রত কুমার দাস। মাতৃভূমি থেকে প্রবাসে, স্বদেশ থেকে পরবাসে, বাংলাদেশের ফরিদপুর থেকে কানাডার টরন্টোতে। অভিবাসী জীবনে পার করেছেন ১০ বছর। এ বছর ঢাকার মূর্ধন্য প্রকাশনী থেকে তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘উৎস থেকে পরবাস’ প্রকাশিত হয়েছে। এতে রয়েছে নানান অজানা অধ্যায়।  শৈশব স্মৃতি রোমন্থন করা থেকে শুরু করে কর্মজীবন, সাহিত্যের জগতে প্রবেশ, কানাডায় আগমন, কিছু হৃদয়বান মানুষের সংস্পর্শ, কানাডার সাহিত্য জগতে প্রবেশ, বিচরণ, ধীরে ধীরে কাজের প্রসার ও বৃদ্ধি। ২০ বছর ধরে পরিচালনা করে চলেছেন বাংলা উপন্যাস নিয়ে নিজের ওয়েবসাইট । কানাডার সাহিত্য নিয়ে বাংলা ভাষায় বই লিখেছেন। টরন্টো ইন্টারন্যাশন্যাল ফেস্টিভ্যাল অব অথরসে (টিফা) এ পর্যন্ত তিনবার অংশ নিয়েছেন। 

৫৯ বছরের পথচলায় যা কিছু পাথেয় রয়েছে তা জানতে আমাদের পক্ষে যুক্ত হয়েছেন কানাডার হ্যালিফ্যাক্স শহরের আরেক তরুণ লেখক অতনু দাশ গুপ্ত।

অতনু: ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট আপনি টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে নীলিমা বৌদিমণি, কন্যা ব্রতীসহ পদার্পণ করেছিলেন। সে সময় থেকে আজ পর্যন্ত ১০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এর আগে আপনার স্বদেশে জীবন একরকম ছিল আর প্রবাসে অবশ্যই তার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা জানতে চাই এ দীর্ঘ সময়কালে আপনি বাঙালি সমাজ ব্যবস্হায় কতটা পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন? 

সুব্রত কুমার দাস:  ধন্যবাদ তোমাকে চমৎকার প্রশ্নের জন্য। আমাকে প্রথমে স্বীকার করতে হবে যে, আমি অতীতে স্বদেশের বাইরে খুব একটা যাইনি। ততদিনের মধ্যে যে সকল দেশ আমি ভ্রমণ করেছিলাম তার মধ্যে ছিল ভারত, নেপাল ও ইতালি। দীর্ঘমেয়াদী সময়কালের জন্য বসবাসের প্রত্যাশা নিয়ে কোনো দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রশ্নই ছিল না আমার জন্যে। প্রবাসে বাঙালি সমাজ কেমন হতে পারে সে সম্পর্কেও নিজস্ব কোনো ধারণা ছিল না। অথবা সে বিষয় নিয়ে ভাবার কখনও প্রয়োজনও বোধ করিনি। ধীরে ধীরে আমার প্রবাসের পথচলা  আশেপাশের বিভিন্ন অজানা দিককে উন্মোচিত করতে থাকল। 

আমাদের সমাজের যখন কেউ প্রবাসে যান তখন সেটা তার জন্য অনেক আনন্দের একটি সমাজ বলে বোধগম্য হয়। কারণ আমরা নতুন একটি সমাজের অংশ হয়ে তাদের আতিথেয়তা গ্রহণ করছি, একই সাথে নেমন্তন্ন, খাওয়া-দাওয়া, প্রাত্যহিক আড্ডা সব চলছে। এটা গেল প্রাথমিক পর্বের পালা। এরপর মূল সময়ের আগমন ঘটবে যখন পারস্পরিক বোঝাপড়া, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতার ব্যাপারগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তখন ক্রমে ক্রমে বোঝা যায় তারা নিজেরা পাঠগত, মননগত এবং চেতনাগতভাবে কেমন– তাদের প্রকৃতিগত পার্থক্যগুলো পরিলক্ষিত হতে থাকে। আমার নিজের জন্যেও এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। 

যখন টরন্টোতে এলাম, আমাদের প্রায় কোনো চেনা মানুষ ছিল না বললেই চলে। ক্রমে অনেক বাঙালি মানুষে সাথে আমাদের সংযোগ ঘটেছে। বিভিন্নভাবে আমাকে এবং আমার পরিবারকে সহযোগিতা করেছেন তাঁরা। উদাহরণস্বরূপ বলি, সাপ্তাহিক বাজারে যাওয়ার সময় নিয়ে যাওয়া, আবার নামিয়েও দিয়ে যাওয়া; পূজোর কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া; অথবা কোনো অনুষ্ঠান বা নেমন্তন্নতে যাওয়ার সময় ভ্রমণসঙ্গী করা ইত্যাদি। সেটি আমাদের কাছে খুবই আনন্দদায়ক এবং সহযোগিতামূলক মনে হতো। মনে মনে বলতাম, "বাহ্, এরা তো খুবই বন্ধুবৎসল!" অনেকে আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বাসায় দিয়েও গেছেন। আমার এবং আমার পরিবারের জন্য যারা এইসব করেছেন তাঁদের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি সম্প্রতি প্রকাশিত আমার নতুন বই ‘উৎস থেকে পরবাস’-এ। সমাজে এই মানুষদের সংখ্যাই সিংহভাগ।  

এসব দেখে আমাদের প্রাথমিকভাবে ধারণা জন্মে যে প্রবাসের মানুষ সবাই খুব সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের।  কিন্তু এরপরে একটা সময় আসে যখন আমাদের অন্য একটি পরীক্ষা শুরু হয়। সেটি সব প্রবাসীর জীবনেই আসে বলে আমি মনে করি। মানুষের সম্পর্কগুলো যখন ঘনিষ্ঠ হয়, তখন তো আমাদের স্বার্থের ব্যাপারগুলো প্রকটিত হতে থাকে। সে সময় নিজেকে আমরা কতটা নিঃস্বার্থ রাখতে পারি বা কতটা উদার রাখতে পারি, অন্যের প্রতি কতটা  শ্রদ্ধাশীল রাখতে পারি – সেই পরীক্ষাটি তখন শুরু হয়। দেখা যায় জীবনের এ জটিল পরীক্ষায় আমরা কেউ কেউ কখনও কখনও অকৃতকার্য হতে থাকি। অন্যের সাফল্যকে স্বাগত জানানোর মতো উদারতা আমাদের কারও কারও থাকে না। যে মানুষ আমার বাসাতে নেমন্তন্ন খান, অথবা যার বাসাতে আমি না গেলে তার পার্টি অর্থহীন হয়ে যেত সেই তিনিও মেনে নিতে পারেন না নতুন বন্ধুর সাফল্য। আমার জন্মদিনে যে মানুষ স্ত্রীসহ দৌড়ে এসেছেন কেক কিনে, সেই তিনিও ঈর্ষার আগুনে দগ্ধ হতে থাকেন টেলিভিশনের পর্দায় আমার জন্মদিনের লাইভ দেখলে। ফেসবুকে তখন গীবত ছড়াতে শুরু করেন তিনি। নিজের বিষ্ঠাতে নিজেই স্নান করতে শুরু করেন। আর এভাবেই সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। বন্ধুতা রূপ নেয় শত্রুতায়। যার উপকার একসময় গ্রহণ করে কৃতার্থ হতেন একজন, এখন তাঁর বদনাম করে সমাজটাকে ভাগাড় বানিয়ে ফেলেন তিনি। এভাবেই নিজের অসৎ চরিত্রটি সকলের সামনে উন্মোচন করে ফেলেন কেউ কেউ।  এটি হচ্ছে আমাদের প্রবাসী সমাজের মানুষের মধ্যকার সম্পর্কগুলো নিয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা। প্রবাসী সমাজে এই বন্ধুতা আর শত্রুতার লুকোচুরি যেন সব প্রবাসীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। 

এখন আমরা দেখব ১০ বছরের ব্যবধানে কী কী  পার্থক্য পরিলক্ষিত করেছি। আজকে  যখন সমাজের দিকে দৃষ্টিপাত করি তখন বোধগম্য হয় যে, অনেক উচ্চতর একটি অভিজ্ঞানকে আমি অর্জন করেছি। সেটির অবতারণায় বলবো  ২০২০ সালে আমরা করোনা অতিমারিতে আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালেও ঘরবন্দি ছিলাম। ২০২২ সাল থেকে আবার ঘর ছেড়ে বাইরে বের হয়ে আসি। এ তিন বছরের সময়কাল অতিক্রম করে আমরা এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, মন্দিরে বা পূজা মন্ডপে এটা প্রত্যক্ষ করলাম যে বিপুল সংখ্যক নতুন মুখের উপস্থিতি। আমরা এটা জানতাম যে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে  প্রচুর অভিবাসী কানাডায় এসেছেন। মনে প্রশ্ন জাগে, এত মানুষ?  এদের অনেককেই তো আমি চিনিই না! 

২০১৩ সালের কথা যদি বলি– তখন দুই বছরের ভেতরে দেখা গেল, মন্দিরে বা কোনো আয়োজনের বিরাট জনগোষ্ঠীকে আমি চিনতে পারছি। এদিকে ১০ বছর পরে দেখছি, প্রচুর মানুষ আমার অপরিচিত। তারা আমাকে চেনেন কি না তা জানি না। এই যে একটা পট পরিবর্তন। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটাতে পারে। আমি মনে করি, এর গভীরতা আমাদের অনুধাবন করতে হবে।

আরও একটি বিষয়কে এ প্রসঙ্গে যুক্ত করতে চাই – প্রবাসে অনেক মানুষের মনোভঙ্গি এমনও আছে যা দুঃখজনক। ধরা যাক, তিনি সাহিত্যের একজন মানুষ। তিনি ৩০ বছর আগে এখানে এসেছেন। এতদিনে তাঁর ধারণা জন্মে গেছে তিনি আদি সাহিত্যিক! সাহিত্যের কোনো আয়োজন হলে সেটা তাঁকে নিয়েই হতে হবে। আবার ধরা যাক একজন সঙ্গীত শিল্পীর কথা। কোনো গানের শিল্পী এখানে এসেছেন?  তিনি ভাবছেন, এ সমাজে কোনো সঙ্গীতায়োজন করা হয়েছে তাকে ছাড়া তা কী করে হবে? বা যদি আমি নিজেও এমন ভাবি, ১০ বছর আগে এখানে এসেছি বা এতদিন ধরে সাহিত্যের ভুবনের সাথে যুক্ত আছি, সুতরাং আমাকে ছাড়া কি একটি সাহিত্যিক উদ্যোগ হতে পারে? সেই ভাবনাটা ভুল। 

মনে রাখতে হবে প্রবাসে সবসময় আমাদের সমাজ পরিবর্তিত হতে থাকে। এই বিষয়টা আমি অনেক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি – ধরা যাক, বাংলাদেশের সমাজের মানুষ। সারা দেশ জুড়ে বা আমার ক্ষেত্রে ফরিদপুরে বা ঢাকায় সব মিলিয়ে দুই-চার শ জন মানুষ পরিচিত ছিলেন। কিন্তু আমার সে সমাজ দৈনিক পরিবর্তিত হচ্ছে না। দৈনিক সেই সমাজে নতুন নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছেন না। হলেও দুই–দশ দিনেই তাঁরা বন্ধু হয়ে যাচ্ছেন না। সেই স্বল্প পরিচিত মানুষটি আমার ঘরের অতিথি হচ্ছেন না। যদি বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমার চারপাশের পরিচিত মুখগুলোর কথা ভাবি, তৎক্ষণাৎ জানি যে চট্টগ্রামের ওমুককে আমি চিনি, বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপককে জানা আছে, বাংলা একাডেমি বা এশিয়াটিক সোসাইটির অমুক তমুক কর্মকর্তা আমার বন্ধু মানুষ। এসব পরিচিতি আমার কাছে সবসময় স্পষ্ট। সেখানে নতুন মুখের সাথে পরিচিতি কম ঘটে। দৈনন্দিন চলার পথে কারও সাথে আমাদের সংযোগ ঘটে এবং পরিচয় ঘটে। তবে সেখানে কাজের নৈকট্য ঘটে অনেক ধীরে। 

অন্য দৃষ্টপটে, প্রবাসে যে ঘটনার আমরা সম্মুখীন হই তা এমন যে, ধরে নিই গতকাল টরন্টোর বাঙালি সমাজে জনসংখ্যা ছিল এক লাখ। আজ সে সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে এক লাখ দু'শ বা চারশো। এরপর ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকছে। প্রতিদিন বাড়ছে। এক শো দুই শো করে বাড়ছে এবং দেখা যাবে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ধরা যাক এক লাখ বারশোতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যে দুইশো, চারশো মানুষ যুক্ত হচ্ছেন, এদের মধ্যে এমন কেউ থাকতেই পারেন যিনি আমার চেয়ে বড় উদ্যোক্তা, হয়তো আমার চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে ধনবান, যার আর্থিক সচ্ছলতা আমার চেয়ে বেশি, অথবা আরও বড় মাপের সাহিত্যিক। এমন সব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যিনি হবেন তাঁর ভূমিকা আরও প্রকট হতে ছয় মাস বা এক  বছর পরে আমরা দেখতে পাব। এমনটি শুধু সাহিত্যের ভুবনে প্রযোজ্য তা নয়, এটি রাজনীতির অঙ্গনে হতে পারে, অর্থনীতি, সঙ্গীত বা এনজিও সেক্টরেও হতে পারে। দেখা যাবে তিনি আমার চেয়ে সবদিকেই এগিয়ে আছেন। তখন এ বিষয়টিকে কোনোরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না ভেবে সহজভাবে গ্রহণ করতে হবে। তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। তিনি আমার পরে এসে কেন আমার চেয়ে এগিয়ে গেলেন এমন ধারণার বশবর্তী হলে তা খুবই অনুচিত, অন্যায় এবং হীনমন্যতার পরিচায়ক হবে। 

আমি মনে করি, যারা আগে এসেছেন তাঁরা পরবর্তীকালে আসা ব্যক্তিদের ভালো কাজে সহযোগিতা করবেন এবং এখানকার সমাজকে নির্মাণে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবেন। এই টরন্টো সমাজে এমন কোনো মানুষ যদি আসেন যিনি আরও শক্তিশালী, ভালো সমাজ নির্মাণে যিনি বৃহৎ ভূমিকা রাখতে সক্ষম, তাঁর পাশে সর্বোতভাবে দাঁড়ানো, উৎসাহিত করা এবং তাঁর কাজে সহযোগিতা করা বাকিদের কাজ। আমরা যদি বিপরীতমুখী হয়ে তাঁকে প্রতিরোধ করতে চাই বা ঈর্ষা পরায়ণ হয়ে তাঁকে ঠেকিয়ে দিতে চাই, তখন সামগ্রিকভাবে বাঙালি সমাজের যে উন্নয়ন তা বাধাগ্রস্ত হবে। সেটি আমাদের সকলের জন্যে ক্ষতিকর হবে। 

অতনু:  বেশ জটিল একটি বিষয়কে অত্যন্ত সুললিত এবং শ্রুতিমধুর করে ব্যাখ্যা করেছেন যা আমাদের পাঠকদের জন্য আনন্দময় মূল্যবান বিষয়বস্তু হবে বলে মনে করি।
আমরা এখন জানতে চাইব কানাডার বাঙালি সমাজ এবং অন্য কোনো দেশের, দৃষ্টান্তস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের বাঙালি সমাজের তুলনামূলক পার্থক্য কেমন? বা মিল-অমিল কেমন? অন্য যে কোনো ভিন্ন দেশের কথাও আমরা আলোচনা করতে পারি।

সুব্রত কুমার দাস:  এক্ষেত্রে প্রথমেই বলা প্রয়োজন আমি যদিও লন্ডন, প্যারিস, রোম, এথেন্স – এ কয়েকটি জায়গায় গেলাম, ওখানকার বাঙালি সমাজকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। তবে দুইবার সফরের সুবাদে নিউইয়র্কের বাঙালি সমাজকে দেখার সুযোগ হয়েছে। দুই দেশের সমাজকে প্রত্যক্ষ করে আমার মনে হয়েছে গঠনগত দিক থেকে প্রচুর সাদৃশ্য রয়েছে। আগে কতটা সাদৃশ্য পাওয়া যেত তা জানি না, কিন্তু এখন সেই মিলনাত্মক বিষয়গুলোকে বেশ সহজেই বোঝা যায়।  যেমন, আমরা টরন্টোতে কী করছি, তা যেমন ক্যালগেরিতে বা মন্ট্রিয়লে বসে সবাই দেখতে পাচ্ছেন, আমাদের প্রবাসী সমাজ কী করছেন সেটাও অন্য শহরের প্রবাসীরা দেখতে পারেন। তার ফলে প্রবাসী সমাজগুলোর মধ্যে সহজেই সাযুজ্য দেখা যায়।  


যেমন ধরা যাক, প্রবাসে আমাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাভিত্তিক সোসাইটি গড়ে উঠে। সেটা যেমন টরন্টোতে, তেমনি নিউইয়র্কে। ঢাকা সমিতি, বা গোপালগঞ্জ বা ফরিদপুর সমিতি এরকম নানান সমিতি গড়ে উঠেছে। কমিউনিটির মানুষকে এক জায়গায় আনার লক্ষ্যে এমন সমিতির অনেক অবদান। কিন্তু আমি মনে করি, এখানে যে পরিশ্রম, মেধা ব্যয় হয় সেটিকে আরও অর্থবহ করা সম্ভব আমরা যদি সেইসব সংগঠনের মাধ্যমে কানাডার প্রেক্ষাপটে  মূলধারার সাথে সংযোগের জন্য কোনো উদ্যোগ নিতে পারি। আমি মনে করি তাহলে সেটি অধিক মূল্যবান একটি কাজ হবে। আমরা হয়তো একশ বা দুইশ জন ফরিদপুরের মানুষ একসঙ্গে ফরিদপুর সমিতি করলাম। সবাই একসাথে বছরে বার্ষিক  বনভোজনের আয়োজন করছি বা ঈদে বা পূজায় একটি অনুষ্ঠানে একসাথে হচ্ছি। এতে নিঃসন্দেহে সৌহার্দ্য বাড়ছে। আমাদের চেনাশোনার বলয় বাড়ছে। আমাদের একশ বা দুইশ জনের একত্রিত হওয়াটা একটি শক্তি। এ সাংগঠনিক ক্ষমতাকে বড়ো কাজে লাগানোর পক্ষপাতী আমি। নাম হিসেবে আমি ফরিদপুর সমিতির কথা বলছি কারণ ফরিদপুর আমার জেলা, ফরিদপুর সমিতি আমার সমিতি। 

এটা সত্যি যে, যেখানে বাঙালি মানুষ আছেন তাদের সহযোগিতা করার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের রাখতে হবে। কিন্তু এই মনোভঙ্গি আস্থার জায়গায় গিয়ে যাতে হোঁচট না খায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অনাস্থা এবং বিশ্বাসঘাতকতার দৃষ্টান্ত যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এই আশঙ্কা যেমন টরন্টোতে আছে, তেমনি নিউইয়র্কেও আছে। পৃথিবীর নানান প্রান্তে যেখানে বাঙালি সমাজ আছে সেখানেই আশঙ্কা আছে বলে আমার ধারণা। 

অতনু:  এরপরে আমরা সাংগঠনিক বলয় নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক আয়োজনে সকলকে এক জায়গায় আনা বা একীভূত করতে আপনাকে কতটা বেগ পেতে হয়?  কী কী দুরুহতা আপনাকে অতিক্রম করতে হয়?

সুব্রত কুমার দাস:  সকলকে আমি কতটা একীভূত করতে পারি তা নিশ্চিত নই। তবে সবসময় যে কোনো আয়োজনে সকলকে নিয়ে পথ চলতে পছন্দ করি। ব্যক্তিজীবনে একজন লেখক হলেও আমি মনে করি সেই সত্তাটিও ব্যক্তির বাইরে একটি সামাজিক সত্তা। সমাজে যে এত মানুষ আছেন তাঁরা যদি আমার বই না পড়লেন বা না জানলেন তাহলে আমার লেখকসত্তা মূল্যহীন হয়ে পড়ে। বোঝাতে চাইছি নিজের লেখক সত্তাও সমাজের সাথে একীভূত হয়ে থাকা একটি প্রতিরূপ। তাই নিজে যখনই কোনো উদ্যোগ নেই তখন চেষ্টা করি সাধ্যমত সমাজের সকলকে সম্পৃক্ত করতে। যিনি আমার প্রতি প্রমাণিত শত্রুভাবাপন্ন নন, তাদের সকলকে অবশ্যই কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রচেষ্টা থাকে আমার। 

অবশ্যই আমার জীবনে বিপরীতমুখী দৃশ্যের অবতারণাও ঘটেছে বেশ ক’বার – এই টরন্টো শহরেই আমার কাজকে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি নানান সময়ে বাধা দিয়েছেন বা থামিয়ে দিতে চেয়েছেন। তাদেরকে পরিহার করে বাকি সবাইকে নিয়ে আমি যে কোনো উদ্যোগে অংশ নিতে চাই। বা অন্য কেউ যদি কোনো উদ্যোগ নেয় তাতে সম্পৃক্ত হতে আনন্দিত বোধ করি।  সকলকে এক ছাদের নিচে আনাটা কিন্তু খুব সহজ কাজ কখনোই নয়। এর জন্য নিজেকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা জরুরি। 

নিজের কথা যদি বলি, আমি সমাজে কতটা গ্রহণযোগ্য?  নিশ্চয়ই আমাকে নিয়েও সমাজে সমালোচনা আছে। অন্যদিকে আমার নিজের কাছে নিজস্ব মূল্যায়নও আছে। ভালোভাবেই জানি আমি কী করছি। আমি কতটা সৎ বা আমার ভেতরে খারাপ কোনো উপাদান আছে কি না এসব বিষয়ে আমি যথেষ্ট অবগত। এজন্যই আমি সাহস নিয়ে মানুষের সামনে এগিয়ে যাই। এর ফলশ্রুতিতে যা ঘটেছে তা হচ্ছে আসার তিন চার বছরে টরন্টো শহরেই বিপুল সংখ্যক বাঙালি মানুষ আমাকে চিনেছেন। বর্তমানে বলবো কানাডার প্রায় লক্ষাধিক বাঙালি অবাঙালি আমাকে জানেন। 

এটি সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন কারণে– প্রথমত, এখানকার পত্রপত্রিকায় আমি নিয়মিত লেখা দিতাম। এসব বিষয় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।  এরপরে আমি যেহেতু শিক্ষক ছিলাম তাই হয়তো গুছিয়ে কথা বলার অভ্যাস রয়েছে। প্রমিত উচ্চারণে কথা বলতে পারি, বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার দক্ষতা রাখি – এগুলো আমাকে পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা পেতে সহায়তা করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলবো, একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে একদিকে যেমন কথা বলছি, তেমনি রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল নিয়েও কথা বলতে পারি। দুর্গাপূজা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি মহাভারত নিয়েও একটি দীর্ঘ আলোচনাতেও নির্দ্বিধায় অংশ নিতে আমি সক্ষম।  সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহকে নিয়ে কথা বলেছি তেমনি মার্গারেট অ্যাটউডকে নিয়েও এক ঘণ্টা কথা বলারও অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার।  এসব বহুমাত্রিক বিষয় এবং সেগুলোর প্রকাশ আমাকে বহু মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। আমার অভ্যন্তরেও উদ্যোগী মনোভাব সবসময়ই ছিল, সেটি আমাকে নিত্য নতুন উদ্যোগে অগ্রণী হতে উৎসাহিত করে এবং নিজে যখন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করি সে সময় আমার পরিচিতি তাদের কাছে পৌঁছতে আমাকে সাহায্য করে, আমার কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে।

অতনু:  আমার বিশ্বাস পাঠকরা আপনার জনসম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি উপরের দীর্ঘ আলোচনা থেকে জ্ঞাত হবেন। এবার আমি আরেকটি বিষয় এখানে বলব, আপনি এনআরবি টিভিতে ঈদে যেমন উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তেমনি বুদ্ধ পূর্ণিমাতেও একই কাজ করেছেন। সবখানে অবাধ উপস্থিতি ছিল।

সুব্রত কুমার দাস:  হ্যাঁ, এ প্রসঙ্গে বলি, ২০১৭ সালে আমরা টেলিভিশনে উপস্থাপনা করা শুরু করি। এনআরবি টিভির নবযাত্রায় সম্পৃক্ত হলাম। আমি তো আগে কখনো উপস্থাপন করিনি। বাংলাদেশে হয়তো দু-চারবার আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে টেলিভিশনে। কানাডায় আসার চার বছরের মাথায় নতুন এক যাত্রা শুরু করলাম নতুন চ্যানেলে, এনআরবিতে। প্রারম্ভে যেভাবে একদম আানাড়ি অবস্থা থেকে সকলে শুরু করে, সেভাবে শুরু করে ধীরে ধীরে আমরা সময়ের সাথে সাথে পাকাপোক্ত হলাম। প্রথমে আমরা দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান করলাম। এ অনুষ্ঠান টরন্টোজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কারণ দুর্গাপূজার কোনো অনুষ্ঠান এর আগে কোনো টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়নি। আমাদের এই উদ্যোগ তাই দর্শকশ্রোতারা অত্যন্ত আনন্দের সাথে গ্রহণ করলেন এবং একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করেছেন। 

এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এই যে, ব্যক্তিজীবনে আমার একটি ধর্ম বিশ্বাস থাকতে পারে। কিন্তু আমি যখন মিডিয়া জগতে পদার্পণ করছি, তখন আমি সর্বজনীনতা নিয়ে দর্শকদের সাথে যুক্ত হব। আমি একজন উপস্থাপক, যদি এই ভূমিকায় আমি দুর্গাপূজাকে উপস্থাপন করতে পারি, কেন আমি ঈদকে নিয়ে উপস্থাপনা করতে পারব না? বা বড়দিন অথবা বুদ্ধপূর্ণিমা নিয়ে সবার সামনে উপস্থিত হতে পারব না? এক্ষেত্রে আমার যে সুবিধা রয়েছে তা হলো, আমাদের প্রধান চারটি ধর্ম সম্পর্কেই পড়াশোনা আমার সামান্য হলেও করা আছে।  তাই এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কখনোই কোনো সমস্যা হয়নি।  

এভাবে করতে করতে বিভিন্ন বিষয়ে আমি আরও দক্ষতা অর্জন করতে লাগলাম। এনআরবি টিভির যিনি প্রধান ব্যবস্হাপক শহিদুল ইসলাম মিন্টু, তাঁর একটি স্পষ্ট অবস্থান আছে এ বিষয়ে। তাঁর মতে, সুব্রত কুমার দাস এনআরবি টিভির একজন সঞ্চালক। তিনি পূজার যেমন উপস্থাপনা করেছেন, তেমনি নামাজ, বড়দিন বা বৌদ্ধ পূর্ণিমার সময়ও তা করবেন। তাতে অসুবিধার কোনো কারণ তিনি দেখেন না, একইভাবে আমিও দেখি না। সুতরাং ক্রমে ক্রমে যেটি দাঁড়িয়েছে, টরন্টোর বাঙালিরা বা আরও বড় কলেবরে বললে, উত্তর আমেরিকার বাঙালিরা এতে কোনো অসুবিধা দেখেন না। 

যখন আমি নামাজের মাঠে গিয়ে দাঁড়াই উপস্থাপনা করার জন্য, অনেক বিশিষ্ট মানুষের সাক্ষাৎকার নিই, বা ঈদ উপলক্ষে টিভিতে যে অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছি, তাতে কোনো রকমের অসুবিধা আমাদের চোখে পড়েনি। তবে এ সমাজের গুটিকয়েক হীনমন্য মানুষ তাঁরা চেষ্টা করেছে আমাকে দমিয়ে রাখতে। বর্তমান সময়ে কাউকে দমাতে যে কাজটি করা হয় তা হচ্ছে তাকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গীবত করা। তাকে ছোট করে পোস্ট দেওয়া। আমাকে নিয়েও এমন দু'চারটা ঘটনা ঘটেছে। এটাই বলব, গত দশ বছরে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে যারা গীবত করেছে তাঁরা এর মাধ্যমে নিজেরা কিছুই অর্জন করতে পারেনি। বরং নিজেদেরকে মানুষের কাছে তাঁরা নিজেরাই হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছেন তাঁরা আমাকে নিয়ে এসব রটানোর কারণ ঈর্ষা। ওই মানুষেরা ঈর্ষা থেকে বেরুতে পারে না। 

আজ থেকে ছয় বছর আগে যে মানুষ আমাকে মদন কুমার দাস বলে গীবত করেছিল, এবং এনআরবি টেলিভিশনকে মদন টেলিভিশন বলে আখ্যায়িত করেছিল, সেই মানুষ নিজেই কিন্তু মদন হয়েই গত ছয় বছর পার করেছে। এখন এনআরবি টেলিভিশনে নিজের মুখ দেখানোর জন্যে সে লোক ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে। কতোটা হাস্যকর। যেই মানুষ বলেছিল আমি কানাডার সাহিত্য কী জানি, সেই মানুষ নিজে কিন্তু কানাডার সাহিত্য নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখতে পারে নাই। অন্যদিকে কানাডার সাহিত্য নিয়ে দুই শ কুড়ি (২২০ ) পৃষ্ঠার একটি বই আমার প্রকাশিত হয়েছে ২০১৯ সালে। অন্যকে ছোট করে যে নিজে যে বড়ো হওয়া যায় না এই সামান্য বোধ তাঁদের এখনও হয়নি। 
 
অতনু:  আপনার বিশ্লেষণধর্মী উত্তরের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা করছি, বিজ্ঞ পাঠকরা বাকিটা নিজেদের বুদ্ধিবলে অনুধাবন করবেন। পরবর্তী প্রশ্নটা আরেকটু ভিন্ন ধাঁচের, আমাদের এখানকার সমাজে এমন কী কাজ রয়েছে যা আমরা স্বদেশে করি না বা করতে পারিনি।

সুব্রত কুমার দাস:  প্রশ্নটা আমার কাছে খুব দামী একটি প্রশ্ন। প্রথমত, আমাদের সবার তো অবশ্যই ধর্মীয় পরিচয় আছে। এটা আমাদের বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি করেছে। একই ধর্মীয় পরিচয় কানাডাতে আমার জন্য কোনো রকম বাধার সৃষ্টি করে না।  কোনো রকম বাধা না থাকায় চারপাশের পরিস্থিতি আরও সাহসী হতে অনুপ্রেরণা দেয় আমাকে। যদিও এখানেও দুই চারজন মানুষ আমার পথে কাঁটা বেছানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু তারা সফল হয়নি। অসৎ মানুষ কখনও সফল হয় না। কিন্তু আমি জানি আমি যদি বিফল হতাম তাদের আনন্দের শেষ থাকত না।  

একবার তো এক অসৎ ভণ্ড সব মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমার জন্য কানাডায় খুব উত্তম একটি পন্থা খোলা রয়েছে। সেটি হচ্ছে ৯১১ কল দেওয়া। তেমন এক ঘটনার অবতারণা ২০১৭ সালে আমার জীবনে একবার ঘটেছিল। আমি চাইব না আর কখনোই একইরকম কারণে ৯১১ এ কল দেওয়ার মতো পরিস্থিতির আমার জীবনে সৃষ্টি হোক।
 
দ্বিতীয়ত, ধরা যাক আমি একটি কাজ বা উদ্যোগের কথা ভাবছি। সেটি নিয়ে আমি আমার মতো এগুতে পারি। কিন্তু বাংলাদেশে যদি এমন কিছু কাজ করতে চাইতাম, সেক্ষেত্রে আমার মাথায় রাখতে হতো কাজের পথে কী কী বাধার সম্মুখীন হতে পারি। যেমন, আমাকে স্থানীয় একজন এমপির বা কোনো মন্ত্রীর তোষামোদ করতে হবে? কার কাছ থেকে অনুমতিপত্র আনতে হবে? আমলাতান্ত্রিক বিষয়ে আমাকে কতটা নাজেহাল বা বিব্রত অবস্থায় পড়তে হবে। এসব বিপত্তি আমাদের যে উৎসাহ বা স্বপ্নের যে অদম্য শক্তি তাকে অনেকটাই কমিয়ে দিত। অন্যদিকে কানাডায় এটি ঘটে না। এখানে আমি প্রতিনিয়ত আমার অনেক ছোট বড় স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে চলেছি। ভবিষ্যতেও কাজ করতে থাকব। এখানে আমাকে স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ ছাড়া অন্যান্য আমলাতান্ত্রিক ঝামেলা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে বিমর্ষ হতে হবে না।

অতনু:  আপনার করোটিতে আরও নতুন নতুন স্বপ্ন আসুক সেই কামনা করি। সেইসব স্বপ্ন পূরণে নতুন এই দেশে আপনি আরও অধিক শক্তির সাথে এগিয়ে যাবেন সেটিই আমাদের প্রার্থনা। অনেক ধন্যবাদ আমাকে সময় দেবার জন্য।