কাতারের বাংলাদেশ স্কুল ও কলেজে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ মাশহুর-উল হক স্মৃতি উচ্চ ও মহাবদ্যিালয়’-এ অনুষ্ঠিত হলো ‘বার্ষিক চারু ও কারুকলা এবং বিজ্ঞান মেলা-২০২৫’। ফিতা কেটে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদরে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– প্রতিষ্ঠান পরিচালক লে. কমান্ডার (অব.) আনোয়ার খুরশীদ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এটিএম আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ মো. রাশেদ চৌধুরী, অত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা, শিক্ষক-অভিভাবক সংগঠনের সদস্যরা, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, অভিভাবকরা, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী।

গ্রেড কেজি ওয়ান থেকে পঞ্চম শ্রেণি র্পযন্ত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে চারু ও কারুকলা প্রদর্শনী এবং ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের সুপ্ত উদ্ভাবনী প্রতিভাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের মেলায় প্রায় ৪৯০টি প্রজেক্ট নিয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চারু ও কারুকলা প্রর্দশনীর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব সৃষ্টি ও নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। 

শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা তথা বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার পাশাপাশি নব উদ্যমে লেখাপড়ার সঙ্গে সৃষ্টিশীল কাজে অনুপ্ররেণা জোগাতে বাংলাদেশ স্কুল প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করে থাকে। সকাল ৯টা থেকে ১২ পর্যন্ত চলমান এ মেলার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত উদ্বোধনের পর মেলায় প্রদর্শিত শিশুদের চারু ও কারুকলা প্রর্দশনীতে বিমুগ্ধচিত্তে তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি খুদে বিজ্ঞানীদের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। এ সময় তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশংসা করেন। 

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি প্রবাসে থাকে এবং তাদের মনে একটা স্বপ্ন কাজ করে। সেই স্বপ্নের বাস্তবরূপ আজকের এই বিজ্ঞান মেলা। ছোট ছোট শিক্ষার্থী খুব সুন্দরভাবে জুলাই আন্দোলন তুলে ধরেছে। যেমন– আবু সাঈদের পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া, একজন রিকশাওয়ালার যুদ্ধাহত জুলাই যোদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, মুগ্ধ পানি খাওয়াচ্ছে। মেয়ে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের নারীদের কুসংস্কার, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা এবং নারী অধিকার নিয়ে যে প্রকল্পগুলো তৈরি করেছে– তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। প্রবাসে অবস্থান করে এখানকার মেয়েরা আমাদের দেশের নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার জন্য যে প্রজেক্টগুলো উপস্থাপন করেছে– তা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ 

রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, এই আয়োজনের অভিনব প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকশিত হবে এবং বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে অসামান্য ভূমিকা রাখবে।

মেলার পরিবেশ ছিল সুশৃঙ্খল, আনন্দঘন এবং উৎসবমুখর। শিশুদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও পরীক্ষণ প্রদর্শনের চেষ্টাকে উৎসবে আগত দর্শক অভিভাবক সবাই প্রশংসা করেন।