কানাডায় মহাসমারোহে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন

বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি দূর প্রবাসের নানা দেশেও এখন উৎসবের আমেজ। উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রাজশাহীর তাহেরপুরে যে শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা হয়েছিল, কালের পরিক্রমায় সেই উৎসবের ঢেউ এখন আছড়ে পড়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপারে কানাডার বুকে।

চলতি বছর শুধু টরন্টো এবং এর পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতেই ২৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা আয়োজিত হচ্ছে। এছাড়া পুরো কানাডা জুড়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে অর্ধশতাধিক মণ্ডপে এ পূজার বিশেষ আয়োজন করেছে প্রবাসী বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। টরন্টোর পাশাপাশি মন্ট্রিল, ভ্যাঙ্কুভার ও উইনিপেগসহ বিভিন্ন প্রদেশের শহরগুলোতে পূজা উপলক্ষে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত বাজছে ঢাকের বোল, ঘণ্টা আর শঙ্খধ্বনি, ধ্বনিত হচ্ছে পুরোহিতের বেদমন্ত্র। ‘বাংলাদেশ কানাডা হিন্দু মন্দির’, ‘টরন্টো দুর্গাবাড়ী’, ‘টরন্টো কালীবাড়ী’ এবং ‘সনাতন ধর্মাশ্রম’-সহ দেশের স্থায়ী মন্দির ও অস্থায়ী মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রতিদিন সকালে অঞ্জলি প্রদান, দুপুরে ও সন্ধ্যায় ভোগরাগ এবং আরতি পরিবেশনে অংশ নিচ্ছেন পুণ্যার্থীরা।

শারদীয় এই মিলনমেলায় শুধু বাংলাদেশি প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, একইভাবে যুক্ত হয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রাও। পূজার অংশ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শাস্ত্রীয় নৃত্য, গান ও নাটকে প্রবাসীদের পাশাপাশি পারফর্ম করছেন দুই বাংলার (বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) আমন্ত্রিত শিল্পীরা।

যদিও পুঞ্জিকা ও তিথি অনুযায়ী গত শুক্রবার থেকে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে, তবে কানাডার অনেক জায়গায় দেবীপক্ষ তথা মহালয়া থেকেই শুরু হয়েছিল এই উদ্‌যাপন। দিন দিন প্রবাসের মাটিতে দুর্গাপূজার পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি এই শারদীয় দুর্গোৎসব রূপান্তরিত হচ্ছে প্রবাসীদের এক বিশাল মিলনমেলায়।