আর মাত্র দু’দিন পরই আমেরিকাতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। শুধু আমেরিকার জনগণই নয় পুরো বিশ্বের চোখই এখন ৫ নভেম্বরের ভোটের দিকে। আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন কমলা হ্যারিস, নাকি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হয়ে হোয়াইট হাউজে ফিরবেন- এই প্রশ্ন এখন অনেকেরই। তবে নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে যে তুমুল প্রতিযোগীতা চলছে তাতে করে বিজয়ী কে হবেন তা নিয়ে হলফ করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এমনকি অনুমান করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়ে পুনরায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন, এই আশায় সাম্প্রতিক সময়ে বিটকয়েনের বাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে বিটকয়েন বিনিময় করা হয়েছে ৭৩,০০০ মার্কিন ডলারের আশেপাশে। অর্থাৎ, একটি বিটকয়েনের দাম বাংলাদেশী মুদ্রায় ৮৭ লক্ষ টাকারও বেশি।
গত মার্চের পর এটাই বিটকয়েনের সর্বোচ্চ মূল্য। উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত বিটকয়েনের সর্বোচ্চ দাম ৭৩,৭৫০ মার্কিন ডলার রেকর্ড করা হয়েছে চলতি বছরের ১৪ মার্চ তারিখে। বিটকয়েনের দামের এই রেকর্ডটি এখনও অক্ষুণ্ণ থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হলে সেটা ভেঙ্গে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রিপ্টো-সংশ্লিষ্টদের অনেকেই তাই ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পক্ষে বাজি ধরছেন। আর তারই প্রতিফলন ঘটেছে বিটকয়েনের বাজারে। গত ১১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ প্রবাহ বা ইনফ্লো লক্ষ্য করা গেছে স্পট বিটকয়েনের এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ)।
বিটকয়েনের দামে ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে বিটকয়েন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এই যেমন গত মঙ্গলবার বিটকয়েন ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান মাইক্রোস্ট্র্যাটেজি’র শেয়ার দর বিগত ৫২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছয়। পাশাপাশি কয়েনবেজ গ্লোবাল ও ম্যারাথন ডিজিটালের মালিক প্রতিষ্ঠান মারা হোল্ডিংসের শেয়ারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিটকয়েনের দাম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও এই রিপোর্ট লেখার সময় দাম কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৬৮,৪২১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে আমেরিকায় আসন্ন ভোট ও ভোটের ফলাফলের উপর বিটকয়েনের দামে বড় ধরণের পরিবর্তনের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ইনভেস্টোপিডিয়া, রয়টার্স