আইফোনে এল ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপ, যা থাকছে ফিচারে

স্মার্টফোনের মতো ডিজিটাল ডিভাইসে ইভেন্ট তৈরির বিষয়টি এখন বেশ সাধারণ এক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহারকারীদেরকে এখন হরহামেশাই বিভিন্ন উপলক্ষ্যে ইভেন্ট তৈরি করতে দেখা যায়। বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সহকর্মী ও সহপাঠীদেরকে নির্দিষ্ট কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর সহজ মাধ্যম হচ্ছে ইভেন্ট তৈরি করে ইনভাইটেশন পাঠানো। বিষয়টির চাহিদা ও গুরুত্ব বিবেচনা করেই এবার অ্যাপল তাঁদের আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে এসেছে ইভেন্ট তৈরির আলাদা একটি অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি অ্যাপলের অ্যাপস্টোরে রিলিজ করা হয় ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ নামের অ্যাপটি। বিভিন্ন ফিচারে সমৃদ্ধ এই অ্যাপটি দিয়ে ইভেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে একাধিক কাস্টমাইজেশনের সুযোগ রয়েছে। অ্যাপটি এরই মধ্যে অ্যাপলের অ্যাপস্টোরে সর্বোচ্চ ডাউনলোড হওয়া ফ্রি অ্যাপের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। ৬৫.৩ এমবি সাইজের ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপটি ইংরেজিসহ মোট ৩৩টি ভাষায় ব্যবহার করা যাবে।  

কারা ব্যবহার করতে পারবেন ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপটি?
মূলত আইফোন ব্যবহারকারীরাই ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ডিভাইসে অবশ্যই থাকতে হবে আইওএস ১৮ বা তার পরবর্তী কোনো ভার্সন। আইফোন ব্যবহারকারীদের মাঝে সীমাবদ্ধ হলেও এই অ্যাপটি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ইভেন্টের ইনভাইট পাঠানো যাবে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড উভয় প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদেরকেই। 

তবে ইভেন্টে যোগ দিতে চাইলে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদেরকে অবশ্যই অ্যাপল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে- যেটা বিনামূল্যেই করা যায়। অন্যদিকে আইওএস ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপটি না থাকলে তারা আইক্লাউড ইনভাইট ওয়েব অ্যাপে লগইন করেও ইভেন্ট তৈরি ও ইনভাইট শেয়ার করতে পারবেন। 

যেসব ফিচার থাকছে ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপটিতে
ইভেন্ট তৈরি ও ইনভাইট পাঠানোর অ্যাপ ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ কোন কোন ফিচার দিয়ে সাজানো এবারে চলুন সেটাই দেখে নেওয়া যাক: 

১। ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপের মাধ্যমে ইভেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে ইচ্ছেমতো ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্ত করা যাবে। এক্ষেত্রে অ্যাপলের তৈরি বিল্ট-ইন বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের পাশাপাশি ফটোস অ্যাপ বা ডিভাইসের গ্যালারি থেকেও কোনো ছবিকে ইভেন্টের ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে সিলেক্ট করে দিতে পারেন ব্যবহারকারী। এছাড়া ইভেন্টের টাইটেল, তারিখ ও সময়, ভেন্যু (স্থান) ইত্যাদি যুক্ত করার সুবিধাতো রয়েছেই- যেমনটা থাকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতেও।

২। ইনভাইটেশনের ফন্টও পরিবর্তন করা যাবে। অর্থাৎ বিভিন্ন টাইপফেস থেকে একটিকে সিলেক্ট করার সুযোগ রয়েছে। ফলে উপলক্ষ্য অনুযায়ী সঠিক ফন্ট বেছে নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

৩। ম্যাপস ও আবহাওয়া অ্যাপও স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সমন্বিত হয়ে যাবে ইভেন্টে, ফলে অতিথিরা সকলেই ইভেন্টের ভেন্যুর ম্যাপ ও সে সময়ের আবহাওয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য বিস্তারিত জানতে পারবেন তাঁদের কাছে পাঠানো ইনভাইট থেকেই।

৪। ইনভাইট পাঠানোর প্রক্রিয়াটি একেবারেই সহজ। ইনভাইটেশনের একটি লিংক যেকোনো মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অতিথিদের সাথে শেয়ার করা যাবে। অতিথিরা লিংকে ক্লিক করে যুক্ত হতে পারবেন ইভেন্টে। এক্ষেত্রে আইফোন ব্যবহারকারীরা ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপটি ব্যবহার করবেন, আর অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে লগইন করে ওয়েব থেকেই অ্যাক্সেস করতে পারবেন ইভেন্টটি। এভাবে শুধু ইনভাইট লিংক অনুসরণ করে ‘গোয়িং’ অপশনটিতে ট্যাপ করেই অতিথিরা ইভেন্টের হোস্টকে জানিয়ে দিতে পারেন তারা ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন কিনা বা যুক্ত থাকবেন কিনা।  

৫। ইভেন্ট সম্পর্কিত যেকোনো আপডেটও মেসেজ আকারে ইভেন্টেই পোস্ট করা যাবে। ফলে শেষ মুহূর্তের কোনো পরিবর্তন বা সংযোজন সম্পর্কে অতিথিদের সবাইকে এক জায়গাতেই অবগত করতে পারবেন ইভেন্টের হোস্ট। 

৬। ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপটির আরেকটি মজার ফিচার হচ্ছে শেয়ার্ড অ্যালবাম তৈরির সুবিধা। এই অ্যালবামটিতে অতিথিরা সকলেই ইভেন্টে তোলা তাদের পছন্দের ছবিগুলো শেয়ার করতে পারবেন। ফলে হোস্ট এবং অতিথিদের সবাই এক জায়গাতেই পেয়ে যাবেন ইভেন্টের ছবিগুলো। এভাবে ইভেন্ট-পরবর্তী ছবি সংগ্রহের ঝামেলা থেকে হোস্টদেরকে মুক্ত করে দিয়েছে অ্যাপল।

৭। অ্যাপটির আকর্ষণীয় আরেকটি ফিচার হচ্ছে মিউজিক প্লেলিস্ট তৈরির সুযোগ। ইভেন্টের হোস্টসহ সকল অতিথিরাই নিজেদের পছন্দের গান বা মিউজিক যুক্ত করতে পারবেন এই প্লেলিস্টে। অর্থাৎ ইভেন্টে কোন ধরণের গান শুনতে চান সেটা আগেভাগেই সিলেক্ট করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া এই প্লেলিস্টের মাধ্যমে ইভেন্টের মুড সম্পর্কেও অতিথিরা অবগত থাকবেন। 

৮। ইভেন্ট সম্পর্কে অতিথিদেরকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য রিমাইন্ডারের সুযোগও রয়েছে অ্যাপটিতে। রিমাইন্ডার কত সময়ের জন্য অ্যাকটিভ থাকবে (সারা দিন নাকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য) সেটাও সেট করে দেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ রিম তিনি দিয়ে দিতে পারেন।

৯। ইভেন্ট তৈরির পর ইনভাইট পাঠানোর আগে তার প্রিভিউ দেখে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে ইনভাইটের ফাইনাল লুক কেমন হবে সেটা ইভেন্টের হোস্ট আগে নিজে দেখে নিশ্চিত হয়ে তবেই অতিথিদেরকে পাঠাতে পারে। ফলে ছোটখাটো কোনো ভুলের কারণে হোস্টকে লজ্জায় পড়তে হবে না।

১০। ইনভাইটেশন ক্রিয়েট করার পর এডিট করারও সুযোগ থাকছে। এছাড়া অতিথিদেরকে পাঠানো কোনো একটি ইনভাইটেশন যদি হোস্টের খুব পছন্দ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে এই ইনভাইটেশনটিকে পরবর্তীতে অন্য কোনো ইভেন্টে ব্যবহারের জন্য তিনি সেভ (সংরক্ষণ) করেও রাখতে পারবেন।

১১। ইনভাইটেশন তৈরি ও পাঠানোর পর হোস্ট চাইলে আমন্ত্রিত সকল অতিথিদেরকে নোটস পাঠাতে পারেন। এছাড়া আলাদা করে ক্যালেন্ডার ইনভাইটও পাঠানো যাবে ইভেন্টের অতিথিদেরকে।

১২। ‘অ্যাপল ইনভাইটস’ অ্যাপটিতে একই সময়ে একাধিক ইনভাইট তৈরি করা যায়। অ্যাপটির হোম স্ক্রিনে তৈরি করা সকল ইনভাইট-ই হোস্ট দেখতে পাবেন। সেখানে আসন্ন ও পুরাতন ইভেন্টের পাশাপাশি সেভ করে রাখা বিভিন্ন ড্রাফট ইনভাইটও দেখার সুযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, হোম স্ক্রিনে দেখা যাবে কোন ইভেন্টগুলো ব্যবাহারকারী হোস্ট করছেন এবং কোনগুলোতে তিনি অতিথি হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন। 

তথ্যসূত্র: অ্যাপল অ্যাপস্টোর