এআই খাতে ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে মেটার নতুন উদ্যোগ

বিশ্বজুড়ে চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জয়জয়কার। এই প্রেক্ষাপটে এআই খাতে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আকৃষ্ট করতে মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা নিয়ে এসেছে তাঁদের এআই মডেল লামা’র এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস)। গত মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) লামাকন ইভেন্টে উন্মোচিত হয়েছে লামা এপিআই।

উল্লেখ্য, এবারই প্রথমবারের মতো এআই ডেভেলপারদের জন্য একটি কনফারেন্স আয়োজন করল মেটা। লামাকন ২০২৫ ইভেন্টটিতে মেটা’র বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এআই প্রোডাক্ট উন্মোচিত হয়েছে। তারই একটি লামা এপিআই। 

লামা এপিআই নিয়ে আসার মাধ্যমে মেটা এবার থেকে এন্টারপ্রাইজ এআই’র বাজারে ওপেনএআই, গুগল ও ডিপসেকের মতো শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে প্রতিযোগীতা করতে সক্ষম হবে। উল্লেখ্য, লামা এআই মডেল দিয়েই তৈরি মেটার এআই প্রযুক্তি, যেটা ইতোমধ্যেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে সমন্বয় করা হয়েছে।

লামাকন ২০২৫ ইভেন্টে নিজের বক্তৃতায় মেটার চিফ প্রোডাক্ট অফিসার ক্রিস কক্স বলেন, ‘আপনি এখন এক লাইন কোড লিখেই লামা’র ব্যবহার শুরু করতে পারেন।’ 

অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস বা এপিআই’র মাধ্যমে সফটওয়্যার ডেভেলপাররা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি টুলকে কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন এবং নতুন কোনো সহজেই নিজেদের পণ্যে ব্যবহার করতে পারেন বা সমন্বয় করে নিতে পারেন। ওপেনএআই’র মতো শীর্ষ এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসই হচ্ছে এপিআই। 

মেটা গত মাসেই (মার্চে) তাঁদের লামা এআই মডেলের সাম্প্রতিক সংস্করণটি রিলিজ করেছে। এবারে তারা উন্মোচন করল লামা এপিআই। তবে এপিআইটি ব্যবহার করতে কত খরচ হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানায়নি মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেটা জানিয়েছে যে, নতুন এপিআই’টি আপাতত সীমিত আকারে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের জন্যই উন্মুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সকল গ্রাহককে এই সুবিধা দেওয়া হবে, যার জন্য সময় লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত।

লামা এপিআই’র পাশাপাশি মেটা মঙ্গলবারের ইভেন্টে একটি স্বতন্ত্র এআই অ্যাসিসট্যান্ট অ্যাপও উন্মোচন করেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মেটা তাঁদের এআই চ্যাটবটের একটি পেইড সাবসক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে বলে ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

মেটা সাধারণত তাঁদের লামা মডেলগুলোকে ডেভেলপারদের বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্যই উন্মুক্ত করে দেয়। এভাবে করে ডেভেলপাররা অন্যান্য পেইড মডেলের পরিবর্তে মেটার এআই মডেলের উপর নির্ভরশীল হবে এবং লামা এআই মডেল-ভিত্তিক উদ্ভাবনী সব টুলের আবির্ভাব হবে, এমনটাই ইতোপূর্বে জানিয়েছিলেন জাকারবার্গ।

লামাকন ২০২৫ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে মেটার এআই ডিভিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মনোহর পালুরি বলেন, ‘এই কাস্টম মডেলগুলোর ওপর আপনার পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে। আপনি এগুলোকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন যেমনটা অন্যান্য (মডেলের) অফারে সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যে মডেলটি কাস্টমাইজ করেন সেটি আপনি যেখানে খুশি নিয়ে যেতে পারেন, এটি আমাদের সার্ভারে লকড্‌ থাকে না।’ 

উল্লেখ্য, ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের এআই মডেলগুলো ওপেন-সোর্স বা উন্মুক্ত উৎসের নয়। অর্থাৎ, এগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় না। আর এখানেই লামা মডেলটি ব্যবহারের সুবিধা নিহিত। 

গত জানুয়ারিতে চীনের ডিপসিক এআই’র বাজারে রীতিমতো ঝড় তোলে। আংশিক ওপেন-সোর্স মডেল দিয়ে অতি স্বল্প খরচে তৈরি ডিপসিক এআই অ্যাসিসট্যান্টটি বাজারে আসার পর আমেরিকার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেরই শেয়ারদর দ্রুত পড়তে থাকে। বিশেষ করে যে সকল প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের বিনিয়োগ রয়েছে এআই খাতে তাঁদের অনেকেরই বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পায় সে সময়।

লামাকন সম্মেলনে মেটা’র ডেভেলপাররা লামা’র নতুন সংস্করণটি তৈরিতে খরচ কীভাবে কমিয়ে এনেছেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় এর কার্যকারীতা বৃদ্ধি করেছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এআই’র বাজারে বর্ধিত প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন মেটা’র সিইও মার্ক জাকারবার্গ, কেননা এর মাধ্যমে বাজারে নির্দিষ্ট কয়েকজনের আধিপত্যের বদলে একটি প্রতিযোগিতামূলক ইকোসিস্টেম তৈরি হবে।

জাকারবার্গ বলেন, ‘ডিপসিকের মতো আরেকটি মডেল যদি কোন একটি দিকে আরও ভালো কিছু করে তাহলে ডেভেলপার হিসেবে আপনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন মডেলের সেরা অংশগুলো (ফিচারগুলো) নিয়ে আপনার ঠিক যেমনটা প্রয়োজন তেমন কিছু তৈরি করে নিতে পারেন। এটা আমি মনে করি, দারুন শক্তিশালী কিছু হতে চলেছে।’ 

তথ্যসূত্র: মেটা