ইতালির বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্মোচন করেছে। ‘লুসে’ নামের এই মডেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার বেশি। আর ডলারে দাম পড়বে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার।
সোমবার ইতালির রাজধানী রোমে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটি উন্মোচন করা হয়। ফেরারির ৭ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক গাড়ি। একই সঙ্গে এটি কোম্পানিটির প্রথম পাঁচ আসনের ও চার দরজার মডেল।
নকশায় অ্যাপলের ছোঁয়া
‘লুসে’ শব্দের অর্থ আলো। গাড়িটির নকশা তৈরিতে কাজ করেছেন অ্যাপলের সাবেক ডিজাইন প্রধান জোনি আইভে এবং ডিজাইনার মার্ক নিউসন। তাঁদের ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম ফেরারির সঙ্গে যৌথভাবে গাড়িটির বডি তৈরি করেছে।

বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে বড় গ্লাস প্যানেল, মসৃণ বডি লাইন ও আধুনিক অ্যারোডাইনামিক ডিজাইন। সামনে রয়েছে ২৩ ইঞ্চি এবং পেছনে ২৪ ইঞ্চি চাকা। ভেতরে ব্যবহার করা হয়েছে ইতালিয়ান লেদার, রিসাইকেলড অ্যালুমিনিয়াম ও বিশেষ গরিলা গ্লাস। স্টিয়ারিংয়ে ফিজিক্যাল কন্ট্রোলের সঙ্গে রাখা হয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে।
এক হাজার হর্সপাওয়ারের বেশি শক্তি
ফেরারি জানিয়েছে, গাড়িটিতে চারটি বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা মোটর। ফলে গাড়িটি এক হাজারের বেশি হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে পারে। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩১০ কিলোমিটারের বেশি। একবার চার্জে চলতে পারবে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি।
২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে গাড়িটির ডেলিভারি শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাঁচ বছরের গবেষণার ফল
ফেরারির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেনেদেত্তো ভিগনা বলেন, ‘এটি পাঁচ বছরের গবেষণা ও উন্নয়ন কাজের ফল। গাড়িটির প্রযুক্তি ও পারফরম্যান্সে ৬০টির বেশি নতুন পেটেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে ফেরারি নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চায়। বিশেষ করে চীনের মতো বাজারে, যেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
তবে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক বিলাসবহুল ব্র্যান্ড এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এমন সময় ফেরারির এই পদক্ষেপকে বড় ঝুঁকি হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
ফেরারি অবশ্য বলছে, তারা শুধু একটি নতুন গাড়ি নয়। বরং ভবিষ্যতের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।



