অ্যাপে জানা যাবে পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি

অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে টিউবওয়েলে আর্সেনিকের উপস্থিতি। আই-আর্সেনিক নামের অ্যাপে জানা যাবে এ তথ্য। এলাকার নাম, টিউবওয়েলের গভীরতা, পানির রংয়ের বর্ণনা দিয়েই আর্সেনিক চিহ্নিত করা যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিশ্বের প্রথম আর্সেনিক চিহ্নিতকরণ অ্যাপটির উদ্বোধন করে। এতে সহায়তা করেছেন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৫৪ জেলায় কম-বেশি আর্সেনিকের প্রকোপ রয়েছে। এসব এলাকার সাড়ে সাত লাখেরও বেশি নলকূপে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি লিটার পানিতে দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রামের বেশি আর্সেনিক থাকলে সেই পানি পান ও রান্নায় ব্যবহারের অনুপযুক্ত। শুধু জানার সুযোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে প্রান্তিক জনসাধারণ।

পানির বিষখ্যাত নীরব এই ঘাতককে সহজেই চিহ্নিত করতে তৈরি হয়েছে আই-আর্সেনিক নামে নতুন এই অ্যাপ। কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়, পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়েল কলেজ অব লন্ডনসহ চার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের প্রথম আর্সেনিক চিহ্নিতকরণ এই অ্যাপ তৈরি করেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনে আই-আর্সেনিক অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়। 

অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, সারা দেশে সবচেয়ে বেশি গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত। তাই এ সম্পর্কে সহজে তথ্য জানা গেলে প্রতিকারও সহজে সম্ভব হবে।

২০ বছরে দেশে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে। তবে এখনও দেশের প্রায় ১৪ শতাংশ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে।