কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নতুন এআই কম্পিউটিং সল্যুশন ‘অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড’ উন্মোচন করেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি চেয়ারম্যান অব দ্য বোর্ড ও রোটেটিং চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াং নতুন এ সল্যুশনের ঘোষণা দেন।
‘অ্যাডভান্সিং দ্য এজেন্টিক ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গ্রাহক ও অংশীদাররা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এআই, ডিজিটাল সংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে আরও বুদ্ধিমান ও উৎপাদনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
হুয়াওয়ে জানিয়েছে, অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড বড় আকারের এআই মডেল তৈরি, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। উচ্চ কম্পিউটিং সক্ষমতা, উন্নত জ্বালানি দক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই অবকাঠামো আরও কার্যকরভাবে পরিচালনায় সহায়তা করবে।
একই অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে ‘অ্যাটলাস ৯৫০ সুপারপড’ও উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সুপারপডভিত্তিক সুপারক্লাস্টারগুলো তাদের পিরিয়াম কম্পিউটিং আর্কিটেকচারের প্রথম প্রজন্মের পণ্য। এগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে বিপুলসংখ্যক প্রসেসর একসঙ্গে একটি কম্পিউটারের মতো কাজ করতে পারে।
এ ছাড়া সাধারণ কম্পিউটিংয়ের জন্য ‘তাইশান ৯৫০ সুপারপড’ এবং এআইভিত্তিক ডেটা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ওশানস্টোর এম৯০০’ স্টোরেজ সল্যুশনও উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। হুয়াওয়ে বলছে, এসব প্রযুক্তি বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের ডেটা ব্যবস্থাপনা সহজ করবে এবং এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করবে।
সম্মেলনে হুয়াওয়ে আরও ঘোষণা দেয়, তাদের এআই ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্যান’ (সিএএনএন) এখন ওপেন সোর্স করা হচ্ছে। এর ফলে ডেভেলপার, প্রযুক্তি অংশীদার এবং গবেষকেরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে নতুন এআই অ্যাপ্লিকেশন ও সেবা তৈরিতে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন।
ডেভিড ওয়াং বলেন, ‘শক্তিশালী এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং কম্পিউটিং ইকোসিস্টেমকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমরা ওপেন সোর্স ও ওপেন সিস্টেমকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে এআই উদ্ভাবনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
হুয়াওয়ে বর্তমানে টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা, উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, পরিবহন, জনসেবা ও শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহক ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।