কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের ওপর ভর করে আমেরিকার শেয়ারবাজারে তৈরি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী ধারা। তবে দেশটির আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ এআই খাতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছর ডেটা সেন্টারসহ এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও তৈরি হয়েছে ইতিবাচক প্রভাব।
তবে আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় পরিবেশের ওপর চাপ, বিদ্যুতের চাহিদা ও খরচ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ দুই কক্ষেই জয় পেলে এআই খাতের ওপর নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স-ইপসসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার ডেটা সেন্টার নির্মাণে সীমাবদ্ধতার পক্ষে। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে এ মতের হার ৪৩ শতাংশ।
তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলেও ডেটা সেন্টার নির্মাণে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে এমন আইন পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই খাতের সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে কংগ্রেসে ক্ষমতার পালাবদল হলে এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে শুনানি ও তদন্ত বাড়তে পারে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, টেক্সাস, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া, নেভাদা, উইসকনসিন ও মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনও নজরে রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ এসব রাজ্যে স্থানীয় সরকার ও আইনসভা ডেটা সেন্টার নির্মাণের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা সেন্টার নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা এআই বিনিয়োগের প্রবণতাকে থামিয়ে দেবে না। তবে এতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও খরচ বেড়ে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত এআই কোম্পানিগুলোর আয় ও শেয়ারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।