কাগজের বর্জ্য দিয়ে তৈরি হবে ওষুধ

বেশিরভাগ মানুষের ধারণা ওষুধ শিল্প পরিবেশের তেমন কোনো ক্ষতি করে না। তবে তাঁদের এই ধারণা ভুল। ২০১৯ সালে দ্য কনভারসেশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধ শিল্প মোটরগাড়ি শিল্পের তুলনায় প্রতি মিলিয়ন ডলারে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। ওষুধের বাজার মোটরগাড়ি খাতের তুলনায় ২৮ শতাংশ ছোট হলেও ১৩ শতাংশ বেশি পরিবেশ দূষণ করছে। এই ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী কাগজের বর্জ্য দিয়ে তৈরি ওষুধ তৈরির উপায় বের করেছেন।

প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি টারপেনটাইনে পাওয়া বেটা পাইনিন নামক একটি উপাদান ব্যবহার করে প্যারাসিটামল, আইবুপ্রোফেন, বিটা-ব্লকার এবং অ্যাজমা ইনহেলারের মতো ওষুধ তৈরির জন্য একটি উপায় খুঁজে পেয়েছে। টারপেনটাইনে কাগজ শিল্পের একটি বর্জ্য।

সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার শিল্পের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করবে। কার্বন ফুটপ্রিন্ট হলো মানুষের কার্যকলাপের কারণে বায়ুমন্ডলে নির্গত গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ। গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে, যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। কার্বন ফুটপ্রিন্ট যত বেশি হবে, জলবায়ুতে তত ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে এই ওষুধগুলো অপরিশোধিত তেল থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। তবে টারপেনটাইন ব্যবহার করে ওষুধ উত্পাদন প্রক্রিয়া আরও টেকসই হবে। টারপেনটাইন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, কারণ প্রতি বছর ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি কাগজ উত্পাদন করা হয়।

এই বিকল্প প্রক্রিয়াটি ওষুধের দামকে আরও স্থিতিশীল করতে পারে। কারণ, তেলের দাম ভূ-রাজনৈতিক কারণগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হলেও টারপেনটাইনের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।

আবিষ্কৃত নতুন এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের তুলনায় টারপেনটাইন ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করা বেশি ব্যয়বহুল। গবেষকদের ধারণা, ভোক্তারা পরিবেশ বান্ধব ওষুধের জন্য সামান্য বেশি দাম দিতে ইচ্ছুক হতে পারে। তবে এটাও মেনে নিতে হবে বেশিরভাগ মানুষই অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে চাইবেন না।

বর্তমান পদ্ধতিটি ব্যয়বহুল হলেও ভবিষ্যতে এর খরচ কমিয়ে নিয়ে আসা গেলে এই পদ্ধতি একটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।