বিদেশি ফোনের বাজার কমছে চীনে, অ্যাপলের কী হবে?

চীনের বাজারে বিদেশি স্মার্টফোনের বিক্রি হ্রাস পাচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। গত নভেম্বরেও বিদেশি ফোনের বাজার সংকুচিত হয়েছে দেশটিতে। এই নিয়ে টানা চার মাস আইফোনের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডের ফোনের চাহিদা কমেছে চীনে- যার শুরুটা হয়েছে গত বছরের আগস্টে। সম্প্রতি চীনের সরকার অনুমোদিত এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে চীনের বাজারে বিদেশি ফোনের বিক্রি এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭.৪ শতাংশ কমে গেছে।

চায়না অ্যাকাডেমি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (সিএআইসিটি) জানিয়েছে যে, নভেম্বরে চীনের বাজারে বিদেশি ফোন বিক্রি হয়েছে ৩০ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট, যেটা ২০২৩ সালের নভেম্বরে ছিল ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার ইউনিট। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরেও বিদেশি ব্র্যান্ডের ফোনের বাজার ৪৪.২৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্মার্টফোনের বাজারে।

চীনে অ্যাপলের মতো জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর বাজার হারানোর পেছনে কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমত চীনের বাজারে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং এর প্রভাবে ভোক্তাদের মাঝে খরচের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পাওয়া। এর ফলে তাঁদের অর্থনীতিতে বর্তমানে মুদ্রাসংকোচন চলছে, অর্থাৎ দৈনন্দিন দ্রব্যমূল্যের দাম কমে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, নভেম্বরে দেশটিতে দ্রব্যমূল্যের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে স্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতাদের উপস্থিতিতে চীনের বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে হুয়াওয়ের মতো স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে অ্যাপল, স্যামসাংয়ের জন্য। হুয়াওয়ের মেট ৬০ ও মেট ৭০ এর মতো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ফোনগুলোর আবির্ভাবে দেশটির স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মাঝে জাতীয়তাবাদী চেতনারও উন্মেষ ঘটেছে। ফলে অনেক ব্যবহারকারীই এখন সচেতনভাবে চীনের নির্মাতাদের তৈরি স্মার্টফোনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।  

চীনের বাজারে নিজেদের অবস্থান ফেরাতে অ্যাপল সম্প্রতি চার দিনব্যাপী এক ক্যাম্পেইনও চালিয়েছে যেখানে আইফোনে ৬৮.৫০ ডলার (৫০০ ইউয়ান) পর্যন্ত মূল্যছাড় অফার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্টে হুয়াওয়ে তাঁদের মেট ৬০ ফোনটি উন্মোচনের মাধ্যেম স্মার্টফোনের বাজারে বেশ ভালোভাবেই ফিরে আসে এবং এরপর থেকে অ্যাপলকে বেশ ভালোই ভোগাচ্ছে চীনের এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। হুয়াওয়ের মেট ৬০ স্মার্টফোনেই প্রথম ব্যবহৃত হয় চীনে উৎপাদিত ৭ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপসেট।

গত বছর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে (এপ্রিল থেকে জুন) চীনের বাজারে শীর্ষ পাঁচ স্মার্টফোন নির্মাতার তালিকা থেকেও ঝরে পড়ে অ্যাপল। তৃতীয় কোয়ার্টারে প্রথম পাঁচে ফিরে এলেও বাজার হারানো অব্যাহত থাকে অ্যাপলের, যেখানে ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় হুয়াওয়ের। 

তবে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব সার্বিকভাবে চীনের স্মার্টফোনের বাজারেও পড়েছে। শুধু নভেম্বরেই চীনের স্মার্টফোনের বাজারে এর আগের বছরের নভেম্বরের তুলনায় বিক্রি হ্রাস পেয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

চীনে আইফোনের বাজার হারানোর আরও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে এখনও পর্যন্ত অ্যাপল স্থানীয় ভাষায় অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের এআই ফিচারগুলো নিয়ে আসতে পারেনি। ফলে আইফোন ১৬ সিরিজের ফোনগুলো আইফোনপ্রেমীদের সেভাবে আকর্ষণ করতে পারছে না, কেননা ১৬ সিরিজের মূল আকর্ষণই হচ্ছে এর এআই ফিচার। চলতি বছরই অবশ্য চীনের স্থানীয় ভাষায় অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আসার কথা রয়েছে। স্থানীয় ভাষায় এআই ফিচার এলে আইফোন ১৬ সিরিজের চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলেই আশা বিশ্লেষকদের।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স