বাংলা নববর্ষের উৎসবের আমেজ শুধু পোশাক বা খাবারেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন প্রযুক্তির বাজারেও যোগ হচ্ছে নতুন রঙ। বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশের স্মার্টফোন বাজারে এসেছে নতুন চারটি ডিভাইস। বাজেট, মিড-রেঞ্জ এবং প্রিমিয়াম, সব শ্রেণির ব্যবহারকারীর জন্যই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। একদিকে যেমন রয়েছে ব্যাটারি ও ক্যামেরার ওপর জোর দেওয়া ডিভাইস। অন্যদিকে তেমনি আছে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের পারফরম্যান্স ও এআই প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্টফোন।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ: ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতার শীর্ষে
প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা ডিভাইস হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা। এটি মূলত সেই ব্যবহারকারীদের জন্য, যারা ফোনে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স, ক্যামেরা এবং প্রযুক্তি চান।
এই সিরিজে রয়েছে উন্নত এআই ফিচার, শক্তিশালী প্রসেসর এবং প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি। ক্যামেরা সিস্টেম বিশেষভাবে উন্নত করা হয়েছে, যাতে পেশাদার মানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করা যায়।
ফোনটির ডিসপ্লে বড়, উজ্জ্বল এবং উচ্চ রিফ্রেশ রেটসম্পন্ন, যা গেমিং এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারে অসাধারণ অভিজ্ঞতা দেয়। স্টোরেজ এবং র্যামের ক্ষেত্রেও এটি শীর্ষে রয়েছে ১২ জিবি র্যাম এবং ২৫৬/৫১২ জিবি স্টোরেজ অপশনসহ পাওয়া যাচ্ছে।
গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজে রয়েছে তিনটি মডেল গ্যালাক্সি এস২৬, এস২৬ প্লাস ও এস২৬ আলট্রা। তবে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ও উন্নত নকশার কারণে ‘এস২৬ আলট্রা’ মডেলটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
বর্তমানে দেশের বাজারে গ্যালাক্সি এস২৬ আলট্রা দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে। ১২/৫১২ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৯৯৯ টাকা, যা কোবাল্ট ভায়োলেট, কালো ও আকাশি রঙে পাওয়া যাচ্ছে। ১২/২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের দাম ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, যা মিলছে কোবাল্ট ভায়োলেট ও কালো রঙে।
এ ছাড়া একই সিরিজের গ্যালাক্সি এস২৬ প্লাস (১২/২৫৬ জিবি) কালো রঙে পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৯৯ টাকায়। আর গ্যালাক্সি এস২৬ (১২/২৫৬ জিবি) আকাশি ও কোবাল্ট ভায়োলেট রঙে পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৯৯ টাকায়। গ্রাহকদের কেনাকাটা সহজ করতে অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে ১২ মাসের সুদমুক্ত কিস্তি সুবিধা দিচ্ছে স্যামসাং।
ভিভো ভি৭০ সিরিজ: ক্যামেরা ও ট্রাভেল ফোকাসড স্মার্টফোন
ভ্রমণপ্রেমী ও ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য ভিভো ভি৭০এফই এবং ভিভো ভি৭০ হতে পারে আকর্ষণীয় অপশন। এই সিরিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ক্যামেরা প্রযুক্তি। বিশেষ করে ২০০ মেগাপিক্সেল সেন্সর ব্যবহার করে ভিভো ফটোগ্রাফিতে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে।
৩০ গুণ জুম, অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন এবং এআই-ভিত্তিক ইমেজ প্রসেসিং, সব মিলিয়ে এটি ভ্রমণ ও আউটডোর ফটোগ্রাফির জন্য বেশ কার্যকর।
ভিভো ভি৭০ এফই তুলনামূলকভাবে মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে রাখা হয়েছে। যেখানে ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ফাস্ট চার্জিং এবং শক্তিশালী ডিসপ্লে রয়েছে। অন্যদিকে ভি৭০ হলো আরও প্রিমিয়াম সংস্করণ। যেখানে উন্নত ক্যামেরা সেটআপ এবং বিল্ড কোয়ালিটি পাওয়া যায়।
ডিজাইনের দিক থেকেও এই সিরিজে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। পাতলা বেজেল, প্রিমিয়াম ফিনিশ এবং হালকা বডি, সব মিলিয়ে এটি তরুণ ব্যবহারকারীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। দাম ৫৬ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ৮৭ হাজার টাকা পর্যন্ত।
অনার এক্স৮ডি: ডিজাইন, ব্যাটারির ব্যালান্সড পারফরম্যান্স
মিডরেঞ্জ সেগমেন্টে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা ফোনগুলোর একটি হলো অনার এক্স৮ডি। পাতলা ডিজাইন, বড় ব্যাটারি এবং ক্যামেরা ফোকাস, এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে ফোনটি তৈরি করা হয়েছে।
মাত্র ৭.৫ মিলিমিটার পাতলা এই ফোনটি হাতে ধরলে প্রিমিয়াম অনুভূতি পাওয়া যায়। ১৮৮ গ্রাম ওজন হওয়ায় এটি দৈনন্দিন ব্যবহারে বেশ আরামদায়ক। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যা দীর্ঘ সময় চার্জ ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব করে।
এই ফোনে ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। এটা দিনের আলো বা কম আলো, উভয় পরিস্থিতিতেই ভালো ছবি তুলতে সক্ষম। এমনটাই দামি ব্র্যান্ডটির। পাশাপাশি ১২০ হার্জ অ্যামোলেড ডিসপ্লে ব্যবহারকারীদের স্ক্রলিং ও ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা আরও মসৃণ করে তোলে। ফোনটির দাম ৩৮ হাজার ৯৯৯ টাকা।
টেকনো স্পার্ক ৫০ সিরিজ: বাজেটের মধ্যে ফিচার-প্যাকড অভিজ্ঞতা
কম বাজেটে ভালো পারফরম্যান্স খুঁজছেন যারা, তাদের জন্য টেকনো স্পার্ক ৫০ সিরিজ বেশ আকর্ষণীয় একটি নাম। এই সিরিজে ৪জি ও ৫জি, দুই ধরনের মডেলই রয়েছে।
৫জি ভার্সনে রয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি সিরিজের শক্তিশালী প্রসেসর। যা দ্রুত ইন্টারনেট ও স্মুথ মাল্টিটাস্কিং নিশ্চিত করে। অন্যদিকে ৪জি ভার্সনে রয়েছে হেলিও সিরিজের নির্ভরযোগ্য চিপসেট, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট।
দুই মডেলেই ৬.৭৮ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে এবং ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট দেওয়া হয়েছে, যা এই দামের মধ্যে বেশ প্রতিযোগিতামূলক একটি ফিচার। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং, ইউটিউব দেখা বা হালকা গেমিংয়ের জন্য এটি ভালো অভিজ্ঞতা দেয়।
ক্যামেরার দিক থেকে উভয় মডেলেই ৫০ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ব্যাটারি। ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি এই ফোনকে দীর্ঘ সময় চালু রাখে। ফলে এটি সব জায়গার ব্যবহারকারীদের জন্যই সুবিধাজনক। দাম শুরু ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা থেকে।
বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেড়েছে। একই দামে বিভিন্ন ব্র্যান্ড আলাদা ফিচার দিচ্ছে, ফলে ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হলেও একই সঙ্গে কঠিনও হচ্ছে।
একদিকে বাজেট ফোনগুলোতে এখন বড় ব্যাটারি ও ৫জি প্রযুক্তি আসছে। অন্যদিকে মিড-রেঞ্জ ফোনগুলো প্রায় ফ্ল্যাগশিপের কাছাকাছি অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারীরা এখন শুধু দাম নয়। বরং ব্যবহারিক প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন বেছে নিচ্ছেন।
তাই নতুন ফোন কেনার আগে শুধু ব্র্যান্ড বা দাম নয়, নিজের প্রয়োজনটা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ।