আইফোন ১৮ উন্মোচন ইভেন্ট

আইফোন ১৮ সিরিজের যেসব ফিচার চমকে দেবে

বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি ইভেন্ট নিয়ে হাজির হচ্ছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। বাংলাদেশ সময় আজ ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অ্যাপলপ্রেমীদের বহুল-প্রতীক্ষিত ‘সারপ্রাইজ এন্ড শাইন’ ইভেন্ট, যেখানে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আইফোন ১৮ সিরিজ।

টানা ১৫ বছর পর এবার অ্যাপলের মঞ্চে দেখা যাবে না টিম কুককে। নতুন সিইও জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটিই হতে যাচ্ছে অ্যাপলের প্রথম বড় হার্ডওয়্যার ইভেন্ট। আর প্রথম ইভেন্টেই তিনি নিয়ে আসছেন স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় চমক অ্যাপলের ইতিহাসের প্রথম ফোল্ডিং বা ভাঁজ হওয়া আইফোন!

আইফোন ১৮ সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচারগুলো কি হতে পারে, বিশেষ করে ফোল্ডেবল আইফোনে কী কী থাকবে- এসবই এখন অ্যাপলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপলের তরফ থেকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি। তবে প্রযুক্তিবিষয়ক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমগুলোতে আইফোন ১৮ নিয়ে বেশ কিছু ধারণা দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতেই চলুন জেনে নেওয়া যাক, আইফোন ১৮ সিরিজে কোন কোন ফিচার আসতে যাচ্ছে।

ফোল্ডিং আইফোনের নাম 'আইফোন ডুও?

সবাই ধারণা করছিল, বহুল-আলোচিত ফোল্ডেবল আইফোন হবে 'আইফোন ১৮ আল্ট্রা', কিন্তু ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যাপলের এই প্রথম ফোল্ডেবল ফোনের নাম হতে যাচ্ছে ‘আইফোন ডুও’। কী থাকছে এই ফোনে? 

এটি একটি বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ফোন, যা ভাঁজ করা অবস্থায় সাধারণ ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। আর খুললেই ভেতরে পাওয়া যাবে বিশাল ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির ওলেড ডিসপ্লে- ঠিক যেন একটি আইপ্যাড মিনি। 

এখন স্মার্টফোনপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ডিসপ্লের ভাঁজ কি দেখা যাবে? ফোল্ডেবল আইফোনে অ্যাপল ব্যবহার করছে নতুন ‘লিকুইড মেটাল হিঞ্জ’ এবং বিশেষ গ্লাস অ্যাডহেসিভ, যা ফোনের ক্রিজ বা ভাঁজের দাগকে প্রায় অদৃশ্য করে দেবে।

আনফোল্ড অবস্থায় ফোনটি মাত্র ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার পাতলা, যা অ্যাপলের তৈরি এ যাবৎকালের সবচেয়ে পাতলা ডিভাইস। তবে এত পাতলা বা স্লিম করতে গিয়ে এতে ফেস আইডি বাদ দিয়ে পাওয়ার বাটনে সাইড-মাউন্টেড 'টাচ আইডি' বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া হয়েছে।

পারফরম্যান্সের জন্য থাকছে একদম নতুন ২-ন্যানোমিটার প্রসেস প্রযুক্তিতে তৈরি A20 Pro চিপসেট এবং ১২ জিবি র‍্যাম। তবে এই প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য পকেট থেকে খসাতে হতে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ। ২৫৬ জিবি ভ্যারিয়েন্টের স্টার্টিং প্রাইজ হতে পারে ২,০০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। 

আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স

ফোল্ডেবলের পাশাপাশি অ্যাপলের মূল ফ্ল্যাগশিপ লাইনআপে আসছে আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন প্রো ম্যাক্স। বাইরে থেকে দেখতে আইফোন ১৭ প্রো-এর মতো হলেও, ডিভাইস দুটোর ভেতরে রয়েছে বিশাল পরিবর্তন।

সবচেয়ে বড় চমক ক্যমেরা বিভাগে। প্রো ম্যাক্স মডেলে অ্যাপল প্রথমবারের মতো যোগ করছে ডিএসএলআর ক্যামেরার মতো ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার বা মেকানিক্যাল আইরিস। এর ফলে কম আলোতে আরও স্পষ্ট ও শার্প ছবি তোলা যাবে এবং পোর্ট্রেট মোডে মিলবে ন্যাচারাল ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার।

অ্যান্ড্রয়েডের পিনহোল কাটআউটের মতো অ্যাপল তাদের 'ডাইনামিক আইল্যান্ড'-এর আকার প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট করছে। এছাড়া নতুন এলটিপিও প্যানেল এবং ব্যাটারির আকার বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ওপরে নেওয়ার কারণে ব্যাকআপ পাওয়া যাবে আগের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

রঙের ক্ষেত্রেও আসতে পারে পরিবর্তন। লাইট ব্লু, ডার্ক চেরি বা বারগান্ডি এবং নতুন ডার্ক ব্ল্যাক শেডে আসবে এই প্রিমিয়াম ফোনগুলো। তবে গ্লোবাল মেমোরি সংকটের কারণে প্রো মডেলে ১০০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রি-অর্ডার শুরু হচ্ছে কবে?

এবার আইফোন প্রি-অর্ডারেও দেখা যাবে ব্যতিক্রমী এক পরিবর্তন। সাধারণত ইভেন্টের পরের শুক্রবার প্রি-অর্ডার শুরু হলেও, ১১ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক নাইন/ইলেভেন ট্র্যাজেডির দিন হওয়ায় এবার প্রি-অর্ডার শুরু হতে পারে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে। আর ক্রেতাদের হাতে ফোন পৌঁছাতে পারে ১৮ সেপ্টেম্বর। তবে ফোল্ডেবল ‘আইফোন ডুও’ পেতে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে অক্টোবর পর্যন্ত।

আরেকটি বড় খবর হলো, আইফোন ১৮ সিরিজের বেস বা স্ট্যান্ডার্ড মডেল এখনই উন্মোচিত হচ্ছে না। অ্যাপল তাদের স্ট্র্যাটেজিতে পরিবর্তন এনে স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৮ এবং আইফোন ১৮ই মডেল দুটির রিলিজ পিছিয়ে ২০২৭ সালের স্প্রিং বা বসন্তকালে নিয়ে গেছে। এই দুটো মডেল আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া আজকের ইভেন্টে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, ওয়াচ আল্ট্রা ৪ (ফোর) এবং নতুন এইচ৩ (এইচথ্রি) চিপের এয়ারপডস ৫ উন্মোচন করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে স্যামসাং বা গুগল বছর পাঁচেক আগে নামলেও অ্যাপল সবসময় সময় নিয়ে নিখুঁত প্রযুক্তি বাজারে আনে। নতুন সিইও জন টার্নাসের অধীনে আড়াই লাখ টাকার এই ফোল্ডেবল আইফোন ডুও এবং ক্যামেরা-প্রধান আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ স্মার্টফোন বাজারকে ঠিক কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: অ্যাপল, সিনেট, ম্যাকরিউমারস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, টেকক্রাঞ্চ, গিকি গ্যাজেটস