দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্মার্টওয়াচ। সময় জানানো, মেসেজ পড়া থেকে শুরু করে একদিনে কয় পা হাঁটলেন বা তাতে কত ক্যালরি খরচ হলো, সবই জানিয়ে দেয় এখনকার স্মার্টওয়াচগুলো। তবে স্মার্টফোন কেনার আগে যেমন ক্যামেরা-ব্যাটারিসহ কিছু স্পেসিফিকেশন আমরা জেনে নিতে চাই, তেমনি স্মার্টওয়াচ কেনার আগেও কিছু বিষয় সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। নইলে দেখা যাবে, সদ্য কেনা শখের স্মার্টওয়াচটি খুব একটা কাজেই লাগছে না।
আসুন তবে স্মার্টওয়াচ কেনার আগে যেসব বিষয় জানতেই হবে, সেগুলোতে নজর দেওয়া যাক:
১. প্রথমেই আপনার যে স্মার্টফোনটি আছে, সেটির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ স্মার্টওয়াচ খুঁজে নিতে হবে। অর্থাৎ, আপনার স্মার্টফোনটি অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইওএস - কোন প্ল্যাটফর্মে চলছে এবং সেগুলোর ভার্সন কী – সে সম্পর্কে বিশদে জেনে নিতে হবে। কারণ এর ওপরই নির্ভর করবে কেনা স্মার্টওয়াচটি ফোনের সঙ্গে ঠিকভাবে কানেক্ট হচ্ছে কিনা। তাই স্মার্টফোনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ স্মার্টওয়াচই খুঁজে বের করতে হবে।
২. প্রায় সব ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচেই থাকে নানা ধরনের ফিচার। কেউ কেউ হয়তো সুনির্দিষ্ট কিছু সুবিধার কথা ভেবেই স্মার্টওয়াচ কেনেন। তাই সেসব বিশেষ সুবিধা সংবলিত ফিচার স্মার্টওয়াচে আছে কিনা, তা দেখে নিতে হবে। আবার এসব ফিচার ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা, সেটিও পরীক্ষা করে নিলে ভালো হয়।
৩. স্মার্টওয়াচটির ব্যাটারি লাইফ কতটুকু, তা অবশ্যই কেনার আগেই নিশ্চিত হতে হবে। যেহেতু এখনকার স্মার্টওয়াচগুলোতে একাধিক ফিচার থাকে, তাই ব্যাটারিও খরচ হয় বেশ। ব্যাটারি লাইফ বেশি না থাকলে দেখা যাবে দিনের মাঝখানেই চুপ মেরে গেছে শখের স্মার্টওয়াচটি। তাই একবার চার্জে পছন্দের স্মার্টওয়াচটি কতক্ষণ চলবে, সেটি নিশ্চিত হতে হবে। অন্তত আপনার কাজের সময়টুকু পার হবে কিনা, সেটি বুঝেই স্মার্টওয়াচ কেনা উচিত। এ ছাড়াও জেনে নিতে হবে ব্যাটারির স্ট্যান্ডবাই টাইম, পুরোপুরি চার্জড হতে কত সময় লাগে ইত্যাদি বিষয়গুলো।
৪. পছন্দের স্মার্টওয়াচটি বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে কিনা, সেটি দেখে নিলে ভালো। যেমন: কল রিসিভ করা বা মেসেজ পড়ার সুবিধা, গান শোনার সুযোগ ইত্যাদি। এখনকার ব্যস্ত জীবনে কখনো কখনো আপনাকে স্মার্টফোন থেকে কিছুটা দূরেও থাকতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর কাজ স্মার্টওয়াচ দিয়ে কতটুকু সারতে পারবেন, সেটি জেনে নিলে মিলতে পারে কিছু বাড়তি সুবিধা।
৫. স্মার্টওয়াচ কেনার সময় অবশ্যই জেনে নিতে হবে সেটি ওয়াটারপ্রুফ কিনা। স্মার্টওয়াচ সব সময় ব্যবহারের জিনিস। ফলে বিভিন্ন উপায়ে এটি পানির সংস্পর্শে আসতে পারে। তা ঘাম হতে পারে, হতে পারে হুট করে নামা বৃষ্টিও। তাই পুরোপুরি ওয়াটারপ্রুফ না হলে বেজায় ঝামেলা।
৬. ওপরের সবকিছু ভালোয় ভালোয় মিলে গেলে সবশেষে দেখে নিন পছন্দ করা স্মার্টওয়াচটি পরে আরাম পাচ্ছেন কিনা। যেহেতু স্মার্টওয়াচ দিনের দীর্ঘসময় পরে থাকতে হয়, তাই আরামদায়ক না হলে তা ব্যবহার করা কঠিন। সুতরাং, কেনার সময় হাতের জন্য আরামদায়ক হবে এমন স্মার্টওয়াচটিই বেছে নিতে হবে।