পৃথিবী থেকে ডায়নোসরের বিলুপ্তি ঘটেছে আজ থেকে ৬৬ মিলিয়ন (বা ৬ কোটি ৬০ লক্ষ) বছর আগে। কিন্তু আমাদের কল্পনার জগত থেকে এই প্রাণীটির অস্তিত্ব আজও মুছে যায়নি। সব বয়সের মানুষেরই কম-বেশি আগ্রহ আছে ডায়নোসরে। বিজ্ঞানীরাও বিশালাকৃতির রোমাঞ্চকর এই প্রাণীটি সম্পর্কে বিভিন্ন সময় তাঁদের গবেষণালব্ধ তথ্য প্রকাশ করেন। এবারে যেমন ডাইনোসরের বিলুপ্তি সম্পর্কে দিলেন নতুন তথ্য।
বিশাল আকৃতির একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে বিলুপ্ত হয় ডাইনোসর প্রজাতি, এমনটাই জানা ছিলো এতোদিন। এবারে বিজ্ঞানীরা জানালেন, ডাইনোসরের বিলুপ্তির পেছনে একটি নয় বরং একাধিক গ্রহাণুর হাত রয়েছে!
পৃথিবী থেকে ডায়নোসরের পদচিহ্ন মুছে যাওয়ার সময়কালেই গ্রহাণুর চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট দ্বিতীয় একটি মহাকাশ শিলাও আঘাত হানে পৃথিবীতে। বর্তমান পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে শিলাটি আছড়ে পড়লে বড় একটি গর্ত (ক্রেটার) তৈরি হয় বলে নিশ্চিত করেছে বিজ্ঞানীরা। বিষয়টিকে ‘বিপর্যয়কর ঘটনা’ উল্লেখ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর ফলে আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে অন্তত ৮০০ মিটার উচ্চতার একটি সুনামি তৈরি করে।
হেরিওট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ উইসডিন নিকোলসন সর্বপ্রথম ২০২২ সালে এই গর্তটি খুঁজে পান যার নাম ‘নাদির’ (নাদির ক্রেটার)। তবে বিশালায়তন এই গর্তটি কিভাবে তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ছিলো অনিশ্চয়তা। তবে এবারে ডঃ নিকোলসন ও তাঁর সতীর্থরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, সমুদ্রপৃষ্ঠে গ্রহাণুর আঘাতেই তৈরি হয়েছে ৯ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে সৃষ্ট এই গর্তটি। অবশ্য নাদির ক্রেটারটি তৈরির একেবারে সঠিক সময়কাল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি বিজ্ঞানীরা।
ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটানো গ্রহাণুর আঘাতে মেক্সিকোতে ১৮০ কিলোমিটার প্রশস্ত ‘চিকসুলুব’ নামের একটি গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয়। এখন ‘নাদির’ ক্রেটারটি চিকসুলুব-এর আগে না পরে তৈরি হয়েছে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
ভূতাত্ত্বিক সময়ের হিসেবে ক্রিটেশিয়াস পিরিয়ডের (যে সময় পৃথিবীতে ডায়নোসরের অস্তিত্ব ছিলো) শেষ দিকে অর্থাৎ ডায়নোসর প্রজাতির বিলুপ্তির সময় বড় গ্রহাণুর পাশাপাশি ছোট শিলাও পৃথিবীতে এসেছিলো বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই শিলা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বিধ্বস্ত হলে বিশাল আকৃতির একটি আগুনের গোলায় পরিণত হয়।
ডঃ নিকোলসন বলেন, “কল্পনা করুন গ্রহাণুটি গ্লাসগোতে (স্কটল্যান্ডের একটি শহর) আঘাত করছে এবং আপনি প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এডিনবার্গে (স্কটল্যান্ডের আরেকটি শহর) আছেন। আগুনের গোলাটি আকাশে সূর্যের আকারের প্রায় ২৪ গুণ হবে- যেটা এডিনবার্গে অবস্থিত গাছ-গাছালি আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।”
গ্রহাণুর আঘাতে সৃষ্ট এই বিপর্যয় এখানেই শেষ হওয়ার কথা নয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রথমে প্রচণ্ড গতির বায়ু বিস্ফোরণ এবং পরবর্তীতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলে বিধ্বস্ত হওয়া গ্রহাণুটি। পাশাপাশি বিশাল পরিমাণের সমুদ্রের পানি সমতল ভাসিয়ে দিয়ে আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। তবে এর ছাপ রয়ে যায় সমতলে।
যদিও আমাদের সৌরজগতে এই ধরণের বড় আকারের দুটি গ্রহাণু এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীতে আঘাত করার কথা নয়, তবে বাস্তবে সেটাই হয়েছে বলে গবেষকদের ধারণা। কিন্তু এর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানাতে পারেননি তাঁরা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি