সূর্যের মতো নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে গত বছরের ডিসেম্বরে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী। আবারও একই বিক্রিয়া করে দেখালেন তাঁরা। গত ৩০ জুলাই এ বিক্রিয়ায় আগের বারের চেয়ে বেশি শক্তি। এর মধ্য দিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দুইটি পরীক্ষাই ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লাইভমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটিতে (এনআইএফ) চালান বিজ্ঞানীরা। লরেন্স লাইভমোরের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এই পরীক্ষার তথ্য এখনো যাচাই করা হয়নি।
সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ঘটে থাকে। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীতেই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় সেই বিক্রিয়া ঘটানোর কৌশল উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এই পরীক্ষার সফলতার মধ্য দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ায় দুই বা তার চেয়ে বেশি পরমাণু একত্র হয়ে বড় একটি পরমাণু তৈরি করে। এই বিক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়। এতে বেশির ভাগ সময় হাইড্রোজেনের বিক্রিয়া হয়ে থাকে। ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচলিত পদ্ধতিতে যে পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ী তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়, নিউক্লিয়ার ফিউশনের ক্ষেত্রে ততোটা হয় না।
আগের বার এ বিক্রিয়ার মাধ্যমে যে শক্তি পাওয়া যায়, তা দিয়ে ১০ কেটলি পানি ফুটানো সম্ভব বলে জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এবার আরও বেশি শক্তি মিলেছে। সেই পরিমাণটা জানা যাবে যাচাই করার পর।