কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির আশীর্বাদের দৃষ্টান্ত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায়। কিন্তু এআই প্রযুক্তি নিয়ে অভিযোগের সংখ্যাটাও একেবারে কম নয়। এআই’র নেতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই প্রযুক্তির কারণে মানুষের চাকরি চলে যাওয়া।
বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান অটোমেশনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ও খরচে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে কর্মী ছাঁটাই করছে। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকও এবার এআই প্রযুক্তির পক্ষ নিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথেই হাঁটলো। কনটেন্ট মডারেশনে এআই প্রযুক্তিকে অধিক মাত্রায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে কয়েক’শ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে টিকটক। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীনের বাইটড্যান্স-এর মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠান।
টিকটক তাঁদের কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়ায় মানুষের পাশাপাশি এআই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে অনেক দিন ধরেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি চাইছে কনটেন্ট মডারেশনের কাজটিকে আরও নিখুঁত করে তোলার জন্য। আর সেজন্যই এআই প্রযুক্তির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ, কনটেন্ট মডারেশনের গুণগত মান উন্নয়নের সার্বিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিশ্বব্যাপী কয়েক’শ কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে টিকটক।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, মালয়েশিয়াতে টিকটকের ৭০০ এরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছে। যদিও সংখ্যাটা ৫০০ এরও কম বলে দাবী টিকটকের। সূত্র আরও জানিয়েছে, চাকরি চলে যাওয়া কর্মীদের বেশিরভাগই প্রতিষ্ঠানটির কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়াটি পরিচালনার সাথে জড়িত ছিলো এবং তাদেরকে বুধবারই ই-মেইলের মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের ২০০টিরও বেশি শহরে ১ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি কর্মী রয়েছে বাইটড্যান্সের।
তবে এখানেই শেষ নয়। আগামী মাসে আরও কিছু কর্মী টিকটকে চাকরি হারাতে পারেন বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় অপারেশনকে আরও সুসংহত করে তোলাই কর্মী ছাঁটাইয়ের মূল লক্ষ্য। এক বিবৃতিতে টিকটকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, "কন্টেন্ট মডারেশনের জন্য আমাদের গ্লোবাল অপারেটিং মডেলকে আরও শক্তিশালী করে তোলার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা এই পরিবর্তনগুলি করছি।"
কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টিকটক চলতি বছরে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। কনটেন্ট মডারেশনের কার্যকারীতা বৃদ্ধিতে তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে টিকটকের মুখপাত্র আরও জানিয়েছে, বর্তমানে গাইডলাইন লঙ্ঘন করে এমন কনটেন্টের ৮০ শতাংশই এআই দ্বারা অপসারণ করা হয়।
মালয়েশিয়াতে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষতিকর সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণেও তাই কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্ল্যাটফর্মগুলোকে। সরকারের দিক থেকেও কনটেন্ট মডারেশনে আরও কঠোর হওয়ার চাপ রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তি-ভিত্তিক অটোমেশনের দিকেই আরও বেশি করে ঝুঁকবে এমনটাই স্বাভাবিক।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স