গত মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামসহ মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফ্যাক্টচেকারদের বাদ দিয়ে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক সেন্সরশিপ চালু করতে যাচ্ছে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান। সেন্সরশিপ নীতিমালায় এই বড় ধরণের পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি বাকস্বাধীনতার কথা বলেছেন। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সপ্তাহ দু’য়েক আগে নেওয়া মেটার এমন সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেছেন। এ তালিকায় এবার যোগ দিলেন আরেক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ।
বাকস্বাধীনতা’কে প্রাধান্য দিয়ে মেটার ফ্যাক্টচেকার-মুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে গতকাল (৮ জানুয়ারি) পাভেল দুরভ এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করেন। মেটা’কে হাল্কা খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গর্বিত যে, রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ বোধ করার আগে থেকেই টেলিগ্রাম বাকস্বাধীনতা’কে সমর্থন জানিয়ে আসছে। আমাদের মূল্যবোধ আমেরিকার নির্বাচনী চক্রের উপর নির্ভর করে না।’
উল্লেখ্য, বাকস্বাধীনতা-কে প্রাধান্য দিয়ে সেন্সরশিপ কমিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে জাকারবার্গ আমেরিকার রাজনীতি’তে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। মূলত ডানপন্থী রাজনীতি ও রিপাবলিকান পার্টির কাছাকাছি যেতেই তাঁর এমন প্রয়াস।
উল্লেখ্য, ফ্যাক্টচেকিংয়ের পরিবর্তে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক সেন্সরশিপ কৌশল অবলম্বনের যে সিদ্ধান্ত মেটা নিয়েছে সেটা অনেকাংশেই ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মের কমিউনিটি নোটসের অনুরূপ।
এক্স প্ল্যাটফর্মে পাভেল দুরভের পোস্টের নিচে মাস্ক কমেন্ট করেন, ‘আপনার জন্য ভালো’। প্রত্যুত্তরে দুরভ লেখেন, ‘আমি নিশ্চিত আপনি বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন। বাকস্বাধীনতা’র সমর্থনে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে আপনি কাজ করে আসছেন- তখন থেকে যখন বিষয়টি আলোচনায়ও ছিল না।’
তথ্যসূত্র: এক্স, ইন্ডিয়া টুডে