ট্রাম্প আসছে, তাই বাতিল করা হচ্ছে যে প্রোগ্রাম

আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে প্রযুক্তি জগতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাম্পের মতো অতি-রক্ষণশীল রাজনীতিকদের তালে তাল মেলাতে রীতিমতো উঠেপড়ে লেগেছে। ক’দিন আগেই মেটা  ‘ফ্যাক্টচেকিং’ বন্ধ করে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক সেন্সরশিপ চালু করে। এবার মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান তাঁদের ‘ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম’ বন্ধ করারও ঘোষণা দিল।

গত ৫ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই বোঝা যাচ্ছে আমেরিকার রাজনীতিতে ডানপন্থী, রক্ষণশীলদের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে চলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রণীত নীতিমালাতেও রক্ষণশীল আদর্শ প্রতিফলিত হবে, এমনটাও অনুমিতই। আর সে কারণেই মেটা তাঁদের ‘ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম’ গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২০ সালে আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড পুলিশ হেফাজতে নিহত হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মেটার মতো অনেক প্রতিষ্ঠানই শুরু করে ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম। উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিষ্ঠানের কর্মী, সাপ্লায়ার, প্রশিক্ষণার্থীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মাঝে বৈচিত্র্য ও ন্যায্যতা বজায় রাখার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক এক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ডানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী রিপাবলিকান পার্টির বেশ ক’জন শীর্ষ নেতা। এই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) মেটা তাঁদের সকল প্রকার ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে কর্মীদের উদ্দেশ্যে আভ্যন্তরীণ একটি মেমো বা নোটিশ প্রকাশ করেছে। 

এতদিন প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে সাপ্লায়ার নির্বাচন- বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেটার ডাইভারসিটি, ইক্যুয়িটি এন্ড ইনক্লুশন (ডিএআই) প্রোগ্রাম কার্যকর ছিল। এবার এই প্রোগ্রামের ইতি টানতে যাচ্ছে মার্ক জাকারবার্গের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান মেটা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স