বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে সমালোচনা চলছে। খেলার গতি ও ছন্দ নষ্ট হওয়ায় বিরক্ত ফুটবলার ও কোচরা। এর পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে, যা নিয়ে নিন্দাও জানিয়েছেন অনেকেই।
গ্লোবাল মার্কেটে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে রমরমা অবস্থা। নামি-দামি ব্র্যান্ড, স্পন্সরদের দাপটে ফিফা যোগ করে নতুনত্ব। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নামে নতুন বিরতি, এরইমধ্যে সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
কন্ডিশন যেমনই থাক, প্রতিটি ম্যাচেই ২২ মিনিটের মাথায় বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক। এর পেছনে ফুটবলারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নাকি ফিফার বাণিজ্যিক স্বার্থ? সেই প্রশ্নে বেশিরভাগই নেতিবাচক অবস্থানে।
১০৪ ম্যাচে দুটি করে হাইড্রেশন ব্রেকে বিজ্ঞাপন থেকে যে অর্থ আসবে তা অবিশ্বাস্য। এক-একটি স্লটের মূল্য নাকি ৭ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার।
ফুটবলের আকর্ষণ তার ছন্দ, লড়াইয়ের গতি। সেখানে ছেদ পড়লে মোমেন্টাম-ই বদলে যেতে পারে। হাইড্রেশন ব্রেক তাই কারোরই পছন্দ হচ্ছে না।
লিভারপুলের সাবেক ম্যানেজার ইয়োর্গেন ক্লপ বলেন, ‘টেলিভিশন স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। মাঠের প্রচণ্ড গরমে প্লেয়াররা যখন ক্লান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং খেলার মাঝে হুট করে বিজ্ঞাপন বিরতি ঢুকে পড়ে, তখন প্রশ্ন জাগে, এই বিশ্বকাপ আসলে কার জন্য? সমর্থক ও ফুটবলারদের জন্য, নাকি ব্র্যান্ড- স্পন্সরদের জন্য?’
নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক বলেন, ‘আমার মনে হয় এই হাইড্রেশন ব্রেকের বিষয়টি বেশ কৌতূহল উদ্দীপক। আজকের ম্যাচের আগে আমি প্রায় সব খেলাই দেখেছি। প্রতিবার যখন এই বিরতির সুযোগে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, সত্যি বলতে এটা আমার একদমই পছন্দ নয়।’
ফিফার দাবি, প্রচণ্ড গরমে ফুটবলারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যই এই হাইড্রেশন ব্রেক। বিশ্লেষকদের কথায় বিরক্তি। এই বিরতি নাকি ফুটবলারদের সুরক্ষার ঢালের চেয়ে স্পন্সরদের জন্য তৈরি একটি সোনার খাঁচা।