আজ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্স

ক্রোয়েশিয়ার প্রথম, নাকি ফ্রান্সের দ্বিতীয়। কোন দেশের কাছে যাবে রাশিয়া বিশ্বকাপের ট্রফি। ২০১৬-এর ইউরোর ফাইনালে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে জয় পেতে মরিয়া ফ্রান্স। অন্যদিকে কোন চাপ না নিয়ে ম্যাচ উপভোগ করতে চায় দালিচের শিষ্যরা। বিশ্বসেরার মুকুটের জন্য জীবনের সেরা ম্যাচ খেলার প্রতিজ্ঞা মডরিচ-মানজুকিচদের। মস্কোর লুঝনিকিতে ম্যাচ শুরু রাত ৯টায়।

শুধু বিশ্বকাপই নয়; ক্রোয়েশিয়ার জন্য প্রথম কোন বড় আসরের শিরোপা জয়ের সুযোগ। ফাইনালই যে দলের কাছে স্বপ্নেরমঞ্চ,, তাদের কাছে সোনালী ট্রফিতো আকাশ ছোঁয়ার কল্পনা। রিয়াল লাইফ যোদ্ধারা মাঠের লড়াইয়েও জয়ীর বেশেই ফিরতে চান।

এদিকে, শোকেসে আরও একটি ট্রফি তুলে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ের কাতারে আসতে চায় ফ্রান্স।

ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মডরিচ বলেন,"অন্য ম্যাচের মতো এটা একটা ম্যাচ। সমর্থকরা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। ইতিহাস গড়তে আমরা প্রস্তুত।"

এদিকে ফ্রান্সের অধিনায়ক হুগো লরিস বলেন,"ওদের শারিরিক ও মানসিক দৃঢতা অনেক। ফাইনালে খেলছে মানেই ওরে অনেক শক্তিশালি। জয়ের জন্য আগের ম্যাচ গুলোর চেয়ে অনেক বেশি ভাল খেলতে হবে।"

ফাইনালের আগে বিশ্লেষণ হচ্ছে প্রতি পজিশনে দুই দলের ফুটবলারের সামর্থ্য, দুই কোচের টেকনিক, ফুটবল ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা নিয়ে। এমবাপে, গ্রিজমান, মাতুইদি, জিরুকে নিয়ে ফ্রন্টলাইন। মিডফিল্ডে পগবা, কন্তে। লরিসকে সুরক্ষা দিবেন উমতিতি-ভারানে-এর্নানদেজ-পাভার। মাঠের তারকাদের সাথে ডাগ আউটে থাকা দুই কোচের লড়াইয়ে এগিয়েই থাকছে ফ্রান্স।

মডরিচ-রাকিটিচ-মানজুকিচের উপর স্পটলাইট রেখে আসর শুরু করেছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে সময়ের সাথে তারকায় পরিণত হয়েছেন প্যারিসিচ, লভরেন, সুবাসিচরা। ভিদা-ভারসালকোও ভরসা দিচ্ছেন। ফাইনালের চাপ না নিয়ে খেলা উপভোগ করতে চায় ক্রোয়াটরা।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ বলেন, "আমি পরিসংখ্যান, মুখোমুখি লড়াই, ঐতিহ্য নিয়ে ভাবি না। এটা ফাইনাল ম্যাচ। প্রতিপক্ষে কে আছে সেটা নিয়েও মাথা ব্যথা নাই। আমরা খেলতে নামবো নির্ভার থেকে ইনজয় করার জন্য। রেজাল্ট যাই হোক মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়বো। গর্ব, অহংকার আর অনেক খুশি মনেই বাড়ি ফিরবো। যার যোগ্য আমরা।"

গেল ৬ বিশ্বকাপের তিনটা ফাইনাল খেলেছে ফ্রান্স। ১৯৯৮তে শিরোপা জিতলেও ব্যর্থ ২০০৬ সালে। ২০১৬ সালে সোনালী প্রজন্মের ফুটবলারা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ইউরো জয়ের। তবে পরিস্কার ফেভারিট হয়েও রোনালদো-এডার-কারেজমাদের অভিজ্ঞার কাছে হারতে হয়েছে। এবার কি অপেক্ষার অবসান ঘটবে নাকি আবারও লেখা হবে বিষাদগাথা।

দিদিয়ের দেশম বলেন, "আমরা প্রস্তুত। শান্ত থাকা, মনযোগ দেয়া আর আত্মবিশ্বাসী থাকার চেষ্টা করছি। এমন ম্যাচ চাপ আর গর্বের। সেরাটা দিতে পারলে জয় ফ্রান্সেই হবে।"

মুখোমুখি লড়াইয়ে সুখকর স্মৃতি নেই ক্রোয়েশিয়ার। পাঁচ দেখায় হারাতে পারেনি ফ্রান্সকে। ১৯৯৮ সালে জিদানের দলের কাছে হেরে-ই বিশ্বকাপের সেমি থেকে বিদায় নিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া।



/জে-এফ/