ক্রিকেটের অনুপ্রেরণায় লঙ্কানদের সম্প্রীতির পরামর্শ

ইস্টার সানডে অ্যাটাকের পর এখনও শ্রীলঙ্কায় জারি রয়েছে জরুরি অবস্থা। চাপা উত্তেজনা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের। স্থানীয়রা বলছেন- সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন পারস্পরিক সম্মানবোধ, জাগিয়ে তুলতে হবে আস্থার জায়গাগুলো। এ ক্ষেত্রে তারা শিক্ষা নিচ্ছেন ক্রিকেট থেকে।

বলিউড সুপারস্টার শ্রীদেবীর নৃত্তকলা সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা ছিলনা শ্রীলঙ্কানদের। নিদাহাস ট্রফিতে নাজমুল অপুর সেই কোবরা ড্যান্স উদযাপন, রীতিমত তাতিয়ে দিয়েছিল স্থানীয়দের। লঙ্কান সংস্কৃতি অনুযায়ী কাউকে সাপের ছোবল দেখানো মানে চরম অসভ্যতা।

নিদাহাস ট্রফির উত্তাপ ক্রিকেটাররা ভুলেছে ক্রিকেটীয় সম্প্রীতিতে। সংস্কৃতি-জীবন বোধ, আচরণে কাছাকাছি দু দেশ, আবার বন্ধু ২০১৯ সিরিজে।

শ্রীলঙ্কার সাবেক অলরাউন্ডার ফারভিজ মাহারুফ বলেন, মাঠে ক্রিকেটারদের অনেক চাপ নিতে হয়। আমার মনে হয় নাজমুল না বুঝেই ওই উদযাপন করেছিল। ওই ঘটনার পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। ইস্টার সানডে অ্যাটাকের পর বাংলাদেশ প্রথম দল হিসেবে শ্রীলঙ্কা এসেছে। আমরা সবসময়ই ভালো বন্ধু।

নিদাহাস ট্রফির সংকট ভুলে আবার বন্ধুত্ব বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার। একই উপায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মাঝে বিরাজমান সাম্প্রতিক উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে চায় লঙ্কানরা। ইস্টার সানডে অ্যাটাকের পর ক্যান্ডিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হয়েছিল একাধিক হামলার ঘটনা।

দাঙ্গা থামাতে টুইটারে আহ্বান জানিয়েছিলেন সাঙ্গাকারা-টেন্ডুলকাররা। কিন্তু পুরো কাজ হয়নি। বিচ্ছিন্নভাবে এখনো চলছে সহিংসতার ঘটনা।

ডেইলি সিলনের স্পোর্টস এডিটর আসাদ তৌফিক বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিস্থতি এখন অনেক নিয়ন্ত্রণে। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষা নিতে পারি ক্রিকেট থেকে। জাতীয় দলে যেভাবে সবাই এক হয়ে খেলে, সেভাবে জাতীয় জীবনে ভূমিকা রাখতে হবে দলবদ্ধ ভাবে।

সীমানার এই প্রান্তে যিনি নায়ক, অন্যপ্রান্তে গিয়েই হয়তো তিনি দুর্জন। বন্ধুত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক সম্মানবোধ। স্থানীয়রা বলছেন- বৈচিত্র হতে পারে শক্তির উৎস, যদি তাকে পরিচিতি দেয়া যায় সম্প্রীতির মাধ্যমে।

/এম-আই/