টেস্টে স্লো ওভার রেটের নতুন শাস্তি খুঁজছে আইসিসি

গত বৃহস্পতিবার ডারবানে আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা বসেছিল। সেখানে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আয় বন্টন নীতি পাশ হয়েছে। আইসিসির টুর্নামেন্টে ছেলে ও মেয়েদের সমান অর্থ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং নতুন টি-টোয়েন্টি লিগে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা চারে রাখার বাধ্যবাধকতাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সে সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও নতুন কিছু আইন চালুর চিন্তাভাবনাও শুরু হয়ে গেছে। যার মধ্যে একটি টেস্টে স্লো ওভার রেটের জন্য ম্যাচেই শাস্তির ব্যবস্থা করা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে না পারলে ক্রিকেটে বহু আগ থেকেই শাস্তি দেয়া হচ্ছে। ওয়ানডেতে এক সময় প্রথমে বল করা দল সময় বেশি নিলে ব্যাটিংয়ের সময় তাদের ওভার কেটে রাখা হতো।

সে নিয়ম থেকে সরে এসে ম্যাচ ফির অংশ কেটে রাখার নিয়ম করা হয় সব ফরম্যাটে। কিন্তু এতে দলগুলোর খুব একটা ভ্রুক্ষেপ না দেখায় অধিনায়কদের নিষিদ্ধ করার শাস্তিও যোগ হয়েছে।

কিন্তু এসব শাস্তির কোনোটিই নিখুঁত নয়। পরশু মিটিং শেষে এ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আইসিসির প্রধান নির্বাহী জফ অ্যালার্ডাইস বলেন, ‘জড়িমানা খেলার গতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলছে না। ছেলেদের ক্রিকেট কমিটি যে জরিমানা দেয়া হচ্ছে সেটায় ভারসাম্য এনেছে।’

গত কিছুদিনে টেস্টে অবশ্য অন্য এক ধরনের শাস্তিও দেয়া হচ্ছে। কোনো দল স্লো ওভার রেটে বল করলে তাদের জড়িমানার পাশাপাশি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে পয়েন্টও কেটে নেয়া হচ্ছে। প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শুধু এই কারণে অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে উঠতে পারেনি। তাদের টপকে নিউজিল্যান্ড চলে গিয়েছিল এবং প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল। অ্যালার্ডাইস এই পদ্ধতির সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘যেসব দল খেলার গতির কথা মাথায় আনে না, তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনার ক্ষতি করছে।’

তবে এটুকুতেই সন্তুষ্ট নন অ্যালার্ডাইস। অনেক দলই ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা না থাকলে আর নিয়ে খুব একটা চিন্তিত থাকে না। এ কারণেই নতুন কোনো উপায় খুঁজছে আইসিসি, ‘কমিটি আগামী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচের মধ্যে শাস্তি দেয়ার নতুন উপায় খুঁজছে। আমরা এখনো এমন উপায় খুঁজছি যা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আমরা এখনো জড়িমানা, পয়েন্ট বা শাস্তির ভালো সমন্বয় খুঁজে পাইনি যা প্রভাব ফেলতে পারে। আমি জানি প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল খেলতে পারেনি ওভার রেটের শাস্তির কারণে, কিন্তু আমরা আরও কিছু খুঁজছি।’

কিন্তু এভাবে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থা এবারের ফাইনালে কাজে দেয়নি। অস্ট্রেলিয়া ও ভারত দুই দলই ওভার রেটে অনেক পিছিয়ে ছিল। যেহেতু তারা ফাইনালেই খেলছে এবং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্র শেষ হয়ে গেছে, দুই দলই বেশ সময় নিয়েছিল। এতে ভারতের ম্যাচ ফির শতভাগ ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের আশি ভাগ ম্যাচ ফি জড়িমানা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দুই বোর্ডের ক্রিকেটারদের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা দেখা যায়নি।

বর্তমানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে স্লো ওভার রেটের কারণে ম্যাচেই শাস্তি পায় দলগুলো। যত ওভার পিছিয়ে থাকে, সে ওভারগুলো ৩০ গজের বাইরে একজন ফিল্ডার কম থাকে। ম্যাচের মধ্যেই শাস্তি পাওয়ার ভয়ে তাই ম্যাচের গতি দ্রুত করার চেষ্টায় থাকে দলগুলো। টেস্টে এ শাস্তি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। অ্যালার্ডাইস তাই এমন কিছু খুঁজছেন যা টেস্টেও প্রয়োগ করা যায়, ‘টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে বৃত্তের মধ্যে একজন ফিল্ডার বাড়িয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করেছি। এখন টেস্ট ক্রিকেটেও ম্যাচের ভেতরে শাস্তির উপায় খুঁজছি।’