বাংলাদেশের বিপক্ষে কেইন উইলিয়ামসন দলে সুযোগ পাবেন তো? গত মার্চে আইপিএলে চোট পাওয়া নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। বাংলাদেশের বিপক্ষেই তাঁর ফেরার কথা।
কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং দেখে মনে হতেই পারে- কী দরকার উইলিয়ামসনকে ফেরানোর! প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বোলিংকে পাড়ার মানের বানিয়ে প্রায় ৮ রানরেটে ২৮৩ রানের লক্ষ্য ৩৭ ওভারের মধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছে নিউজিল্যান্ড। সেদিন দুজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। আজ কেউই সেঞ্চুরি করেননি, তবু হায়দরাবাদে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩২২ রান তুলেছে কিউইরা।
সংগ্রহ আরও বড় হতে পারত। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের সবাই রান পেয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে যেমন দেখিয়েছিল, এই নেদারল্যান্ডস কখনো হাল ছাড়েনি। যখনই মনে হচ্ছিল, নিউজিল্যান্ডের রানের গতি লাগাম ছাড়াতে যাচ্ছে, তখনই চেপে ধরেছেন ডিলিডফল মিকেরেন, মারউই ও আরিয়ান দত্তরা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেড় শ ছাড়ানো ইনিংস খেলা ডেভন কনওয়ে আজ অতটা তেড়েফুঁড়ে উঠতে পারেননি। তবু উইল ইয়াংয়ের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৭ রান তুলে তবে ফিরেছেন। রুয়েলফ ফন ডার মারউইকে তুলেও মারতে গিয়ে ৩২ রানে ফিরেছেন কনওয়ে। উইকেটে নামেন আগের ম্যাচের অন্য সেঞ্চুরিয়ান রাচিন রবীন্দ্র।
উইল ইয়াং ও তাঁর জুটিতে এসেছে ৭৭ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল্ডেন ডাক পাওয়া ইয়াং ৮০ বলে ৭০ রানের চমৎকার ইনিংসটার শেষ হয়েছে খুব বাজে এক শটে। ইনিংসের মাঝপথে দলকে ১৪৪ রানে রেখে ফিরেছেন ইয়াং। একটু পর একই কাজ করেছেন রবীন্দ্র। বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি করেছেন। কিন্তু ৫১ বলে ৫১ রান করে মারউইয়ের বাজে এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের রান ততক্ষণে ১৮৫। ইনিংসের বল বাকি তখনো ১০৬টি। তখন স্বাভাবিকভাবেই নিউজিল্যান্ডের রান তিন শ ছাড়ানোর কথা। ড্যারিল মিচেল ও টম ক্যাথামও বেশ ছন্দে ব্যাট করছিলেন। ৪৭ বভলে ৫৩ রানের জুটিটা ভাঙল অফ কাটারে। ফন মিকেরেনের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে আগেই ব্যাট চালিয়ে বোল্ড ৪৭ বলে ৪৮ রান করা মিচেল।
নেদারল্যান্ডসের প্রত্যাবর্তন এরপরই। ৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট প্রায় ফেলে দিয়েছিল তারা। তবে মার্ক চ্যাম্পমান নেমেই গোল্ডেন ডাকের হাত থেকে রক্ষা পেলেন রিভিউ নিয়ে। অবশ্য ৭ রান পরই সে উইকেট পেয়ে গেছেন নেদারল্যান্ডস। ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে ২৫৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় কিউইরা।
কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম তো ছিলেন। তিনিই ম্যাভটা নেদারল্যান্ডসের আয়ত্ত্বের বাইরে নিয়ে গেলেন। ইনিংসের দ্রুততম ৪৩ বলে ফিফটি তাঁর। মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে সপ্তম উইকেট জুটিতে ২৭ বলে ৩৯ রান এনে ৫৩ রানে ফিরেছেন দত্তের বলে স্টাম্পড হয়ে।
তাতে নেদারল্যান্ডসের লাভ হয়নি। শেষ ৯ বলে ২৯ রান তুলেছেন স্যান্টনার ও ম্যাট হেনরি। ১৭ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত স্যান্টনার।