আফগানিস্তান নয়, পাকিস্তানকেই অনুসরণ করল শ্রীলঙ্কা

ভারতের বিপক্ষে ২ উইকেটে ১৫৫ রান তোলা পাকিস্তান পরে দুই শ রান করতে পারেনি। গতকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিনা উইকেটে ১১৪ রান তুলে ৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারালেও পথ হারায়নি আফগানিস্তান। ২৮০ পেরোনো স্কোর দেশটিকে ওয়ানডেতে তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত জয় এনে দিয়েছে।

আজ শ্রীলঙ্কাও পেয়েছিল উড়ন্ত সূচনা। উদ্বোধনী জুটিতেই ১২৫ রান পাওয়া শ্রীলঙ্কা খোঁড়াতে খোঁড়াতে তুলেছে মাত্র ২০৯ রান।

বিশ্বকাপে ছন্নছাড়া এক অস্ট্রেলিয়ার দেখা মিলেছে এখন পর্যন্ত। টস হেরে বল করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংসের প্রথমভাগে আজও তেমনটাই লাগছিল। কখনো নিজেদের, কখনো আম্পায়ারের ভুলে শ্রীলঙ্কার ওপেনিং জুটি ভাঙতে ব্যর্থ তারা। অথচ বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ১০ রানও পেরোতে পারেনি এই জুটি।

অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের উপহার পেয়ে পাওয়ার প্লেতে দলকে পঞ্চাশ পার করে দেন পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল পেরেরা। এরপর রান তোলার গতি বেড়েছে। ১৮তম ওভারেই এক শ পেরোয় শ্রীলঙ্কা।

৫৭ বলে ফিফটি পান পেরেরা। নিশাঙ্কার লেগেছে এক বল বেশি। দ্বিতীয় স্পেলে এসে এই জুটি ভাঙেন প্যাট কামিন্স। নিরীহ বোলিংয়ে আগের বলেই চার মেরেছিলেন নিশাঙ্কা। পরের বলও শর্ট ছিল। আরেকটি হুক করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন। কিন্তু এবার দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে নিশাঙ্কার ইনিংসটা ৬১ রানে থামিয়ে দেন ডেভিড ওয়ার্নার।

১২৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। নামেন আজই অধিনায়কত্ব করতে নামা দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কুশল মেন্ডিস। প্রথম দুই ম্যাচে ঝোড়ো ফিফটি ও সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানকে পাশে পেয়ে পেরেরাও আগ্রাসী ব্যাট করছিলেন।

কিন্তু প্রান্ত বদল করে বল করা কামিন্সের একটি বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে যান পেরেরা। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে আসা কামিন্সের বল হালকা সিম মুভমেন্ট করায় দোটানায় পড়ে ৮২ বলে ১২ চারে ৭৮ রান নিয়ে ফেরেন পেরেরা।  

২৭তম ওভারে ১৫৭ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন তিন শ ছাড়ানো স্কোরের কথা বলে। বিশেষ করে উইকেটে যখন আগের ম্যাচের দুই সেঞ্চুরিয়ান মেন্ডিস ও সামারাবিক্রমা। কিন্তু জাম্পার বলে স্লগ করতে গিয়ে ওয়ার্নারের ক্যাচের শিকার মেন্ডিস। সামারাবিক্রমাও বিদায় নিলেন গুগলি খেলতে না পেরে। ৮ বলের মধ্যে ১ রানের ব্যবধানে এই দুজনের বিদায় শ্রীলঙ্কার তিন শ রানের আশা শেষ করে দেয়। স্টার্ক ও জাম্পা মিলে সেটা ২০৯-এ টেনে এনেছেন।

শুরুতে প্রচুর রান দিলেও ৪৭ রানে ৪ উকেট পাওয়া জাম্পাই সফরলতম বোলার। স্টার্ক ও কামিন্স পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।