শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) প্রশাসনে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সে হাওয়ায় এবার পদ ছাড়তে যাচ্ছেন এসএলসির দীর্ঘদিনের সভাপতি শাম্মি সিলভা। তাঁর পরিবর্তে অন্তর্বর্তী হিসেবে বোর্ড প্রধানের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন দেশটির সরকার মনোনীত সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে বিরোধী দলে থাকা এরান উইকরামারত্নে।
শাম্মি সিলভা ২০১৯ সাল থেকে এসএলসির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়াদ এখনো এক বছর বাকি থাকলেও আজ মঙ্গলবারই হতে পারে বোর্ডে তাঁর শেষ দিন।
এসএলসির নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়ে হয়েছে আজ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, কমিটির কিছু সদস্য নিজেদের মেয়াদ পূর্ণ করতে চান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ জানিয়েছে, সেই সুযোগটা খুবই কম। কারণ, দেশটির প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমারা দিশনায়েকে নিজেই বোর্ডের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করছেন।
তাই চাইলেই দেশটির সরকার বোর্ডে এমন হস্তক্ষেপ করতে পারে? উত্তর হচ্ছে- পারে। দেশটির ১৯৭৩ সালের ক্রীড়া আইনেই ক্রীড়া আইনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ফেডারেশন ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচিত জাতীয় সংস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ আইসিসির নীতিমালার পরিপন্থি। এই জোরপূর্বক পরিবর্তনকে আইসিসি কীভাবে দেখবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জানা গেছে, আইসিসিকে বিষয়টি অবহিত করে দ্রুত নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে।
সম্প্রতি প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি)। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডকে সরিয়ে তামিম ইকবালকে প্রধান করে অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়েছে বিসিবিতে। সূত্রের বরাতে ক্রিকবাজ জানিয়েছে, এসএলসি বা বিসিবির বিষয়ে আইসিসির তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের কোনো ইঙ্গিত নেই।
তা হঠাৎ কেন শ্রীলঙ্কার বোর্ডে এমন হস্তক্ষেপ করছে সরকার? দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক বাজে পারফরম্যান্স তো আছেই, এর সঙ্গে বোর্ডের ভেতর দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।



