এলেন, দেখলেন, জয় করলেন

এলেন, দেখলেন, জয় করলেন‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম…’

সেই খ্রিষ্টপুর্ব ৪৭ সালের ঘটনা। প্রায় বিনা বাধায় পন্টুস রাজ্য দখল করেছেন, তাও আবার চার ঘন্টারও কম সময়ে। এমন দাপটের দুর্দান্ত প্রদর্শনীর পর কথায় বা আচরণে হালকা ঔদ্ধত্যও যদি প্রকাশ পায় – দোষ দেওয়া যায় না। দখল করার পর রোমের সিনেটকে ওপরের কথাগুলো বলে নিজের বিজয়ের কথা জানানোর জন্য জুলিয়াস সিজারকে দোষ দেয়ওনি কেউ।

মোহাম্মদ শামি অবশ্য ওপথে যাননি। এমনিতেই চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন, কখনও মাঠ ও মাঠের বাইরে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বা কাজ করে রোষের শিকার হয়েছেন, বা সতীর্থদের চক্ষুশূল হয়েছেন, এমন কিছু শোনা যায়নি কখনও। উলটো যশপ্রীত বুমরা, মোহাম্মদ সিরাজ বা শার্দুল ঠাকুরকে মূল একাদশে জায়গা করে দেওয়ার জন্য ভারতের বেঞ্চে বসে থাকার ‘ভূমিকা’কে মেনে নিয়েছেন আদর্শ খেলোয়াড়ি মনোভাবে। ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে উচ্চবাচ্য করেননি। তবে বিশ্বকাপে গতকালই প্রথম সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ শামি এসেই যা করেছেন, এরপর যদি জুলিয়াস সিজারের ওই কথাগুলো তাঁর মুখেও ফুটে উঠত, কেউ দোষ দিত কী?

শুরু থেকেই ‘টিম কম্বিনেশনে’র দোহাই দিয়ে শামিকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছে ভারত। লম্বা ব্যাটিং অর্ডারের সুবিধা নেওয়ার জন্য দুজন স্পেশালিস্ট পেসারের পাশাপাশি হার্দিক পান্ডিয়া আর শার্দুল ঠাকুরের মতো দুজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার খেলাচ্ছে তারা। গত ম্যাচে চোটে পড়েন হার্দিক, শার্দুলের ফর্মও যাচ্ছেতাই। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে তাই পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবীই ছিল।

শামির ডাক পড়ল। আদর্শ ‘টিমমেট’-এর মতো এসেই দলের প্রয়োজনে হাত বাড়ালেন। উইল ইয়ং, রাচিন রবীন্দ্র, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার, মার্ক হেনরি – বলতে গেলে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারে শামিই ত্রাস সৃষ্টি করেছেন, সঙ্গে লোয়ার অর্ডারের দুটো উইকেটও পুরেছেন ঝুলিতে। কন্ডিশনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বুমরা, সিরাজরা যা করতে পারেননি, সেটাই করে দেখিয়েছেন শামি। প্রথম সুযোগেই নিজের সামর্থ্যটা দেখিয়ে দিলেন শামি, ৫৪ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট শিকার করলেন এই ডানহাতি পেসার। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সৌজন্যেই উড়তে থাকা কিউইদের ২৭৩ রানে থামিয়ে ভারত তুলে নিয়েছে ৪ উইকেটের জয়। আইসিসি টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ডকে ২০ বছর ধরে হারাতে না পারার আক্ষেপটাও মিটেছে তাতে।

অথচ এত বড় কাজ করার পর শামি কী বললেন? ব্যক্তিগত কৃতিত্বের ফিরিস্তি নয়, তাঁর কণ্ঠে শোনা গেল দলীয় সাফল্যের জয়গান, ‘খুব কঠিন ছিল না (বিরতির পর বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলা), দলও ভালো করছিল। ওই সময় দলকে আমার সমর্থন করে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি সেটা উপভোগ করছিলাম। দলের জন্য এটাই জরুরি।’

অথচ চাইলেই জুলিয়াস সিজারের মতো ‘ভেনি, ভিদি, ভিসি’ বলতেই পারতেন। বললে তাঁর কথায় অসম্মত হওয়ার মতো মানুষ ধর্মশালায় পাওয়া যেত না অন্তত!