বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওয়া 'শাপ'ই এখন ভারতের 'বর'

এলেন, দেখার সময়ও নিলেন না, জয় করলেন! 

এবারের বিশ্বকাপে ভারতের জার্সিতে মোহাম্মদ শামির পথচলার গল্পটা তো এমনই! প্রথম চার ম্যাচে তাঁকে একাদশের বাইরেই বসিয়ে রেখেছিল ভারত, তখন হার্দিক পান্ডিয়া ছিলেন দলে। তিনি কিছু ওভার করে দিতেন, আর তৃতীয় পেসার হিসেবে খেলতেন শার্দুল ঠাকুর। 

কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে পান্ডিয়া চোটে পড়ে মাঠের বাইরে গেলেন। শার্দুলও ভালো করছিলেন না। দুইয়ে মিলিয়ে তৃতীয় পেসার হিসেবে ভারত একাদশে টানতে বাধ্য হলো মোহাম্মদ শামিকে। পান্ডিয়ার ব্যাটিংটা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য দলে ঢুকলেন সূর্যকুমার। 

তা সূর্য এখনো এক ইনিংসের বাইরে বাকি দুই ইনিংসে আলো ছড়াতে ব্যর্থ। কিন্তু শামি দলে ঢোকার পর থেকে যে আলো ছড়িয়েই যাচ্ছেন, আর থামার নাম নেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম সুযোগ পেয়েই ৫ উইকেট, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ উইকেট, আর আজ মুম্বাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিলেন। ম্যাচসেরাও শামি ছাড়া আর কে! 

এই পাঁচ উইকেট নিয়ে রেকর্ডও হলো শামির। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন শামির - ১৪ ম্যাচে ৪৫টি! এর আগে রেকর্ডটা ছিল জহির খানের (২৩ ম্যাচে ৪৪ উইকেট)। জাভাগাল শ্রীনাথেরও উইকেট ছিল ৪৪টি, তবে তাঁর ম্যাচ লেগেছিল ৩৩টি। 

আরেকটি রেকর্ডও আজ ভেঙেছেন শামি। আজকের ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের জার্সিতে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৪ বার ম্যাচে ৫ উইকেটের কীর্তি হলো শামির, ৩ বার করে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন শ্রীনাথ ও হরভজন। 

ভারতের বোলিং লাইনআপ এবার তাদের ব্যাটিংয়ের মতোই শক্তিশালী। বুমরা তো আছেনই, সিরাজও আজ ছন্দে ফিরেছেন। কুলদীপ যাদব ও জাদেজা স্পিনে ভয় ধরাচ্ছেন। এর সঙ্গে গত তিন ম্যাচে শামি যোগ হয়ে যেন বাকিদেরই ছাপিয়ে যাচ্ছেন! 

সেদিক থেকে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দিতে পারে ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষে পান্ডিয়ার চোট এসেছে ভারতের জন্য 'শাপ' হয়ে, সেটিই এখন যেন 'বর'-এ পরিণত শামির সৌজন্যে! 

পরিসংখ্যান আস্ত গাধা, শুধু সংখ্যা দিয়েই সবকিছুর বিচার হয় না। তবে একটা প্রাথমিক ধারণা তো মেলে। সেখানে পরিসংখ্যান বলবে, যে চার ম্যাচে পান্ডিয়া খেলেছেন, সেখানে ব্যাট হাতে এক ম্যাচে ১১ রান করার পর তাঁর আর ব্যাটিংয়ে নামার দরকারই পড়েনি, বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। প্রথম ম্যাচে অশ্বিন খেললেও আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের পরের তিন ম্যাচে শার্দুল খেলেছেন, তিনি তিন ম্যাচে নিয়েছেন ২ উইকেট। সে জায়গায় শামি ৩ ম্যাচেই নিলেন ১৪ উইকেট!  

শামি 'বর' নয় তো কী!