টাইমড আউট বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের!বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন টাইমড আউট হওয়া প্রথম ব্যাটসম্যান হয়ে, সে নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এরপর আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ক্রিজে নামার পরই আবার ম্যাথুস খোঁচা খেলেন হেলমেট নিয়ে।
গত সোমবার দিল্লিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামতে তো দেরি করেছেনই ৩৬ বছর বয়সী লঙ্কান ব্যাটসম্যান, ক্রিজে নামার পর দেখা গেল তাঁর হেলমেটও ছেঁড়া। এ নিয়ে আরও সময় নষ্ট করলেন ম্যাথুস, প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বা আম্পায়ার কারও সঙ্গে কথা না বলেই ড্রেসিংরুম থেকে হেলমেট আনতে ডেকে পাঠান। ততক্ষণে তাঁর আগের ব্যাটসম্যান সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হওয়ার পর তিন মিনিটেরও বেশি পেরিয়ে গেছে, যেখানে এক ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে পরের ব্যাটসম্যানকে বল খেলার মতো প্রস্তুত থাকতে হয়।
আর যায় কোথায়, সাকিবের আবেদনে আম্পায়ার টাইমড আউট ঘোষণা করেন ম্যাথুসকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪৬ বছরে প্রথম টাইমড আউট! এরপর দুদিন এ নিয়ে কত কথাই তো হলো! কেউ সাকিবকে তুলোধুনো করেছেন ক্রিকেটের 'স্পিরিটে'র ধোঁয়া তুলে, কেউ সমালোচনা করেছেন ম্যাথুসের আলসেমির। আর কারও কাঠগড়ায় উঠেছে আইসিসির এ আইনটিই। সাকিব আর ম্যাথুস এ নিয়ে নিজেদের মত জানিয়েছেন। সাকিবের চোখে, তিনি আইনের মধ্যে থেকে জয়ের জন্য যা করার প্রয়োজন মনে করেছেন, সেটাই করেছেন। আর ম্যাথুস জানিয়ে দিলেন, সাকিব ও বাংলাদেশ দলের প্রতি কোনো সম্মান আর অবশিষ্ট নেই তাঁর। এর মধ্যে ম্যাথুসের বড় ভাই ট্রেভিন ম্যাথুস আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দিয়ে রেখেছেন, সাকিব শ্রীলঙ্কায় গেলে তাঁকে পাথর মারা হবে!
এই যখন অবস্থা, নিউজিল্যান্ড দল এর মধ্যে মজা খুঁজে নিয়েছে। বেঙ্গালুরুতে আজ দুই অর্থে 'ডু অর ডাই' ম্যাচে মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। নিউজিল্যান্ড বড় ব্যবধানে জিতলে সেমিফাইনালের দৌড়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে অনেকটা পেছনে ফেলে দেবে তারা। আর শ্রীলঙ্কার জয় চাই ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নেওয়ার জন্য। সে ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধসের মুখে পড়া শ্রীলঙ্কার হয়ে নবম ওভারে ক্রিজে নামেন ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা ম্যাথুস। নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে শুরু হলো কিউই ফিল্ডারদের খোঁচাখুঁচি।
ম্যাথুস ক্রিজে যাওয়ার সময়েই নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্ট কিছু একটা বলেছেন ম্যাথুসকে, শুনেই দুজনের কী হাসি! এরপর ক্রিজে যাওয়ার পর উইলিয়ামসনও কিছু একটা বলেছেন ম্যাথুসকে। তা দেখে ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, উইলিয়ামসন হয়তো আগেভাগেই ম্যাথুসের কাছ থেকে জেনে নিলেন যে তাঁর হেলমেট ঠিক আছে কি না! তবে এবার আর বিতর্ক নয়, আরেক দফা হাসি উইলিয়ামসন আর ম্যাথুসের।