‘দুধভাত’দের আউট করতে বড্ড মায়া তাঁদের

অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় অচেনা এক দল নিয়ে হাজির হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তরুণ কিন্তু প্রতিভাবান এই দলের অনেকেই এই প্রথম গেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। সেটা মাঠেও টের পাওয়া গেছে। আজ অ্যাডিলেইডে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩৩ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। 

এরপরই একটু প্রতিরোধ দেখা গেছে। অভিযুক্ত শামার জোসেফ ও কেমার রোচ মিলে শেষ উইকেট জুটিতে ৮৩ বল খেলেছেন। সে সঙ্গে এনে দিয়েছেন মূল্যবান ৫৫ রান।অভিষেকেই ৩৬ রান শামার জোসেফের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের এমন লড়াই নতুন কিছু না। এই তো বছরের প্রথম টেস্টেই দেখা গেছে লড়াই। সিডনিতে আমের জামালের দুর্দান্ত ৮২ রানের ইনিংস ২২৭ রানে ৯ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে ৩১৩ রানের পুঁজি এনে দেয়। সে জুটিতে জামালের সঙ্গী মীর হামজা মাত্র ৭ রান করলেও অস্ট্রেলিয়ার তিন বিখ্যাত পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডদের সামলে ২২.১ ওভার টিকেছিলেন।

টেস্টে বর্তমানের সেরা পেসত্রয়ী এই তিনজন। কিন্তু প্রায় সাড়ে আট শ উইকেট পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের গত দুই বছরে এভাবে ভুগতে বেশ কবারই দেখা গেছে। ২০২২ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮০টি নবম ও দশম জুটিকে ব্যাট করতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে জামাল ও হামজার ৮৬ রানের সে জুটির বাইরে আরও তিন জুটি পঞ্চাশোর্ধ্ব রান পেয়েছে। চল্লিশের বেশি রান পেয়েছে আরও তিন জুটি।

২০ বার নবম ও দশম উইকেট জুটি অন্তত ২০ রান পেয়েছে। অর্থাৎ ২৫ ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ দুই জুটির একটি অন্তত ২০ রান এনে দিচ্ছে, যা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে বড় প্রভাব রাখতে পারে। 

সময়টা আরেকটু কমিয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করলে অস্ট্রেলিয়ার চিন্তা আরেকটু বাড়বে। এই সময়টায় শেষ দুই উইকেট জুটিকে নিজেদের সামনে ৪৪ বার ব্যাট করতে দেখা গেছে। এবং আগে উল্লেখ করা চারটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গত এক বছরেই হয়েছে। ১৩বার অন্তত ২০ রান তুলেছে শেষ দুই জুটির একটি। অর্থাৎ, ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে শেষ দুই জুটির একটি লড়াই করছে। 

সিডনিতে আমেরের লড়াই পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যাটসম্যানরা কাজে লাগাতে পারেননি। কিন্তু ইংল্যান্ড বা ভারতের ক্ষেত্রে এমন জুটি বেশ কয়েক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল।