অসাধারণ, অনবদ্য, অবিশ্বাস্য.... তাওহীদ হৃদয়ের আজকের ইনিংসটাকে যেভাবেই বর্ণনা করুন না কেন, কোনো বিশেষণেই এর মাহাত্ম্য পুরোপুরি বোঝানো যাবে না। দুর্দান্ত ঢাকার ১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৩ রানেই নেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। কিন্তু খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’র মতো লড়েছেন হৃদয়। শুধু লড়েই থেমে থাকেননি, ৫৩ বলেই তুলে নিয়েছেন এবারের বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি।
হৃদয়ের এ মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর করে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ১ বল বাকি থাকার সময়ে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।
এবারের বিপিএলের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লাকে হারিয়ে দারুণ সূচনা পেয়েছিল দুর্দান্ত ঢাকা। কিন্তু কুমিল্লার সঙ্গে ম্যাচের পরই যেন খেই হারিয়ে ফেলে ঢাকা। একে একে আজকের আগ পর্যন্ত আরও ছয়টি ম্যাচ খেলেছে, হেরেছে সবগুলোতেই।
বিপিএলের ২৬তম ম্যাচে এসে আজ আবারও মুখোমুখি ঢাকা-কুমিল্লা। যে কুমিল্লাকে হারিয়ে জয়ের পথ ভুলেছিল ঢাকা,একই ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপক্ষে তাসকিনদের জন্য ম্যাচটি তাই ছিল আবারও জয়ের পথে ফিরে আসার। অন্যদিকে কুমিল্লার জন্য আজকের ম্যাচটি ছিল প্রতিশোধের। এমন সমীকরণের সামনে থাকা ম্যাচে ঢাকাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে কুমিল্লা।
ঢাকা ম্যাচটা হেরেছে এক হৃদয়ের কাছেই। ছক্কা হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলা লিটন দাস প্রথম ওভারেই যখন আউট হলেন (৫ বলে করেছেন ৮ রান), এরপরই মঞ্চে আবির্ভাব হৃদয়ের। এরপর যা করেছেন, সেটা চোখধাঁধানো।
দল বিপর্যয়ে পড়েছে, এক প্রান্তে উইকেটের মিছিল, অন্যপ্রান্তে বুক চিতিয়ে লড়েছেন হৃদয়। শরীফুল-তাসকিন-সাইফদের একের পর এক ডেলিভারি বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন। এভাবেই এক পর্যায়ে ঢাকার হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। কুমিল্লার জয় নিশ্চিত করার পর হৃদয় যখন এক বুক স্বস্তি নিয়ে ড্রেসিং রুমের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বলে ৫৭ বলে ১০৮ রানের ইনিংসে। যে ইনিংসে হাইলাইটস হয়ে আছে ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা।
অথচ কে জানত, ম্যাচের ভাগ্য এভাবে বদলে দেবেন হৃদয়। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করা ঢাকার ১৭৫ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল কুমিল্লা। লিটনের পরের ওভারে রানআউট হয়েছেন আরেক ওপেনার উইল জ্যাকস (৫ বলে ৯ রান)।
মাত্র ১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে কুমিল্লা। দলের হাল ধরতে এসে বিপদ বাড়িয়ে যান ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সাবেক অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শরীফুলের লেংন্থ ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন কায়েস (৩ বলে ১ রান)।
এরপর ব্রুক গেস্টকে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালান তৌহিদ হৃদয়। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভারে ৫৪ রান পায় কুমিল্লা। ৯ ওভার শেষে বিরতির সময় কুমিল্লার স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ৭৭ রান উঠে গেছে।
হৃদয়-গেস্টের দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচের পাল্লা ধীরে ধীরে কুমিল্লার দিকে হেলতে থাকে। দ্বাদশ ওভারে ব্যক্তিগত অর্ধশতকের (৩২ বলে) দেখা পান হৃদয়। একই ওভারে দলীয় শত রানে পৌঁছায় কুমিল্লা। তবে একটু পরেই চতুরঙ্গ ডি সিলভা এসে গেস্টকে আউট করেন। এতে চতুর্থ উইকেটের জুটি থেমে যায় ৮৪ রানে।
গেস্টকে হারিয়ে ম্যাচের দায়িত্ব যেন একার কাঁধে তুলে নেন হৃদয়। কেননা অপরপ্রান্তে রেমন রেইফার (৪ বলে ৬ রান) এসে থিতু হওয়ার আগেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১৫০ রানের দেখা পায় কুমিল্লা। তখনো জয় থেকে ১৫ বলে ২৬ রান দূরে। বাকি কাজটা একাই সারলেন হৃদয়। ৫৩ বলে তুলে নিলেন সেঞ্চুরি, যা এবারের বিপিএলেই কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম। একইসঙ্গে কুমিল্লাও পেয়ে যায় মধুর প্রতিশোধের জয়।