খরগোশের সঙ্গে দৌড়াতে নেমে কচ্ছপের গতি দেখাল চট্টগ্রাম

বিপিএলে দুই শ রান হয় না বলে আক্ষেপের কমতি ছিল না। আজ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সে আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন রংপুর রাইডার্সের ব্যাটসম্যানরা। ২১১ রান তাড়া করে জয় তো দূরে থাক, ঠিকমতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি চ্যালেঞ্জার্স। রান পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েছে চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

দুই শ তাড়া করার মতো ব্যাটিং যা একটু শুভাগত হোমই করেছেন। ছয়ে নেমে ১৩ বলে ৩১ রানের সে ইনিংস যদিও লজ্জা ঢাকাতেই শুধু কাজে লেগেছে, দলের বাকিদের মধ্যে রান তাড়ার কোনো চেষ্টাই দেখা যায়নি। টুকটুক করে ব্যাটিংয়ে ১০ ওভারের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিয়েছে চট্টগ্রামের টপ অর্ডার।  

শুধু স্কোরকার্ড দেখলে মনে হবে সৈকত আলীর নাম আগে লেখা উচিত ছিল। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ইমরান তাহির, মেহেদী হাসানদের পিটিয়ে ৪৫ বলে ১ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৩ রান করেছেন সৈকত। কিন্তু তাঁর ইনিংস চট্টগ্রামের ক্ষতি করেছে। ৫৩ রানে জিতে শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করল নুরুল হাসান সোহানের দল।

জশ ব্রাউন শুরুতেই আউট, টম ব্রুসও বেশিক্ষণ টিকেননি। চারে নামা শাহাদাত হোসেন দীপুও আউট ৯ রানে। সৈকত তাই খোলসে ঢুকে বসেছিলেন। এক পর্যায়ে ২২ বলে মাত্র ১২ রানে ছিলেন সৈকত। তাঁর স্ট্রাইকরেট এক শ পেরিয়েছে ১৪তম ওভার। ১৩ ওভার শেষেও ২ ছক্কা মারা সৈকতের রান ছিল ৩৭ বলে ৩২। চট্টগ্রামের রান তখন মাত্র ৭৬। পরের সৈকত গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ৭ ওভার ধরে ওভারপ্রতি  ২০ রান টোলা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের পক্ষেই সম্ভব না।

অধিনায়ক শুভাগত হোমের ২৩৮ স্ট্রাইকরেটের ৩১ রানের ক্যামিও ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৮ রান এনে দেয় চট্টগ্রামকে। 

রংপুরকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব আল হাসান। বল হাতে নিয়েই ওপেনার জশ ব্রাউনকে (৯ বলে ১০ রান) বোল্ড করেন তিনি। টম ব্রুসকে নিয়ে সে ধাক্কা সামলে তোলেন সৈকত আলী। ধাক্কা সামলে উঠলে রানের গতি থেমে যায় চট্টগ্রামের। পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভার শেষে চট্টগ্রামের রান মাত্র ৩২!

অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসেই ব্রুসকে (১৩ বলে ১৪ রান) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ট্রেডমার্ক ভো দৌড় দেন ইমরান তাহির। 

৫০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। সাকিবের দ্বিতীয় শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ১৩ বলে ৯ রান করা শাহাদাত হোসেন দীপু। কার্টিস ক্যাম্ফার (২১ বলে ২৪ রান) থিতু হলেও হাত খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন নিশাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে। ১৬ ওভারে ১০০ পেরোয় চট্টগ্রাম।