ক্রাইস্টচার্চে টস জিতে আগে বোলিং নিয়ে ভুল করলেন কি না, এ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল প্যাট কামিন্সের কপালে। যে সবুজাভ উইকেট দেখে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, সেখানে কোনোভাবেই সুবিধা করতে পারছিলেন না মিচেল স্টার্ক-কামিন্স-হ্যাজলউডরা। অনেক চেষ্টার পরেও প্রথম ১৮ ওভারে কোনো উইকেট আদায় করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা।
কিন্তু এরপরই শুরু। তাসমান সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উইকেটের স্রোত নামে ক্রাইস্টচার্চে। যে স্রোতে একে একে ভেসে গেছে কিউইদের প্রতিরোধ। উইকেট পতনের এ ঢেউয়ে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের হাতে ধরাশয়ী হয়ে ১৬২ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা - ক্রাইস্টচার্চে টেস্টে এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বনিম্ন। সেখানেই ঢেউ থামেনি। কিছুটা গতি হারিয়েও আছড়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেও। দিনের বাকি অংশে অস্ট্রেলিয়ার গেছে ৪ উইকেট। তাতে ১২৪ রান তুলেছে পেরেছে প্যাট কামিন্সের দল। প্রথম দিন শেষেই ৬ উইকেট হাতে নিয়ে মাত্র ৩৮ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া।
ক্রাইস্টচার্চে ১৪ উইকেট হারানোর দিনে শুরুটা নিরাপদেই করেছিল কিউইরা। কিন্তু ৪৭ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পরের ৬০ রানের ব্যবধানে আরও ৭ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে নবম উইকেটে অর্ধশতক রানের জুটিতে সে বিপর্যয় কিছুটা কাটিয়ে ওঠে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ানদের হয়ে দিনটি নিজেদের করে নিয়েছেন পেসার হ্যাজলউড। মাত্র ৩১ রানেই ৫ উইকেট পেয়েছেন তিনি। আরেক পেসার স্টার্ক দারুণ একটি মাইলফলক পেরিয়েছেন। ৩ উইকেট নিয়ে ডেনিস লিলিকে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি পেসার এখন স্টার্ক। আর পেসার-স্পিনার মিলে ধরলে তালিকায় চারে উঠলেন ৩৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার।
এ ম্যাচের শুরুতে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে শততম টেস্ট খেলতে নামা কেইন উইলিয়ামসন ও টিম সাউদিকে। কিন্তু দুজনের কেউই মাইলফলকের এ টেস্ট রাঙাতে পারেননি। উইলিয়ামসন ৩৭ বলে ১৭ রান করে হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউ আউট হয়েছেন। অন্যদিকে বোলিংয়ে এসে ৮ ওভার হাত ঘুরিয়েও কোনো উইকেটের দেখা পাননি সাউদি। এ ম্যাচ দিয়েই ক্যারিয়ারে শেষবারের মতো টেস্টে আম্পায়ারিং করেতে নেমেছেন ইরাসমাস। ম্যাচের শুরুতে অভিজ্ঞ এ আম্পায়ারকেও গার্ড অব অনার দিয়েছে দুই দল।